শিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপদ ভবিষ্যতের ওপর পরিবেশ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা এবং গাজীপুর নগরীকে দূষণমুক্ত রাখতে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) দিনব্যাপী নীতি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন অডিটোরিয়ামে গাকৃবি ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা খানম। সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের আরবান প্রোগ্রামের সিনিয়র ম্যানেজার জোয়ানা ডি. রোজারিও।
অনুষ্ঠানে গাকৃবির বিভিন্ন অনুষদের ডিন, পরিচালক ও শিক্ষক, গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, যুব ফোরামের সদস্য, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শিশু ফোরামের প্রতিনিধিরা অতিথিদের হাতে বৃক্ষের চারা তুলে দেন। এর মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় শিশুদের অংশগ্রহণ ও সচেতনতার বার্তা তুলে ধরা হয়।
টঙ্গী আরবান প্রোগ্রামের এরিয়া ম্যানেজার মানস বিশ্বাসের স্বাগত বক্তব্যের পর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গাকৃবির মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও প্রক্টর ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম। তিনি পরিবেশ দূষণের বিভিন্ন কারণ, এর ফলে শিশুদের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যতের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং দূষণ প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে তথ্যভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন।
পরে পাঁচজন প্যানেলিস্টের অংশগ্রহণে প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবেশ দূষণের বিভিন্ন দিক, শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নগর পরিবেশের উন্নয়ন এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। পরে অনুষ্ঠিত হয় উন্মুক্ত আলোচনা।
অনুষ্ঠানে মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘ব্যক্তি পর্যায়ে সৃষ্ট আবর্জনার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে সামষ্টিক দূষণ অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব। গাজীপুর জেলা প্রশাসন অংশীজনদের নিয়ে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে শিশুদেরসহ সবার জন্য পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত নগরী গড়ে তুলতে কাজ করতে আগ্রহী।’
তিনি ভালো পরিবর্তনের সূচনা নিজ নিজ জায়গা থেকে করার আহ্বান জানান।
জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বায়ুদূষণ রোধে পর্যাপ্ত বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।’
পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের জাতীয় কর্মসূচিকে তিনি পরিবেশ সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, ‘নিরাপদ ও নির্মল নগরী গড়ে তুলতে গাকৃবি সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।’
সংলাপে শিশুদের পরিবেশগত ঝুঁকি কমানো, নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন জোয়ানা ডি. রোজারিও।
কেকে/এমএ