রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় প্রশাসনের বিভিন্ন সরকারি ও সামাজিক অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের যথাযথভাবে সম্পৃক্ত না করার অভিযোগ উঠেছে।
গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের ব্যানারে উপজেলা বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ দলের কোনো প্রতিনিধির নাম রাখা হচ্ছে না এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিএনপি নেতাদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন দলটির নেতারা। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বিএনপি নেতাদের দাবি, প্রশাসনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় না থাকায় তারা বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া থেকেও বিরত থাকছেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেল ৩টায় গঙ্গাচড়া অডিটরিয়াম কাম-মাল্টিপারপাস হলে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ‘শিক্ষার মানোন্নয়নে মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা’ অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রায়হান সিরাজী। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার।
বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই মতবিনিময় সভার ব্যানারেও উপজেলা বিএনপির কোনো নেতার নাম রাখা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার বলেন, “উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হচ্ছে না। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানারে উপজেলা বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ কোনো প্রতিনিধির নাম রাখা হয় না। এতে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বকে উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে আমরা মনে করি। এ কারণেই বিএনপির নেতারা এসব অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকছেন।”
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী বলেন, “আমরা বিভিন্ন উপজেলার প্রশাসনিক অনুষ্ঠান সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে দেখেছি, যেখানে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য রয়েছেন, সেখানেও স্থানীয় বিএনপির উপজেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে রাখা হচ্ছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরকারের প্রশাসনিক প্রতিনিধি, আর বিএনপি নেতাকর্মীরা রাজনৈতিকভাবে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাই প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি। সমন্বয় না থাকলে কোনো কাজই সঠিকভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু গঙ্গাচড়ায় সেই সমন্বয় দেখা যাচ্ছে না। ব্যানারে বিএনপি নেতাদের নাম না থাকায় আমরা এসব অনুষ্ঠানে যাচ্ছি না।”
এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মো. নায়েবুজ্জামান বলেন, “উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানগুলোর ব্যানার উপজেলা প্রশাসনই তৈরি করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের যথাযথভাবে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। আগামীতে উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে বলে আশা করি।”
বিএনপি নেতারা বলছেন, স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসন ও রাজনৈতিক-সামাজিক নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় থাকলে সরকারি কার্যক্রম আরও কার্যকর ও জনবান্ধব হবে। তাই ভবিষ্যতে উপজেলা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলোতে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের যথাযথভাবে সম্পৃক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তারের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
কেকে/সাশ