হাতে বই, খাতা-কলম। সামনে সারি সারি কোমলমতি শিক্ষার্থী। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের ভূমিকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান। কেউ পড়ছে, কেউ মনোযোগ দিয়ে শুনছে। আর ইউএনও যাচাই করছেন কে কতটা সাবলীলভাবে পড়তে পারছে। একপর্যায়ে বোর্ডে লিখে নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াও শুনলেন তিনি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে এমন ভিন্ন চিত্রের দেখা মেলে।
বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন ইউএনও সানজিদা রহমান। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের রিডিং দক্ষতা যাচাই করেন এবং তাদের বই পড়তে দেন। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষের পাঠদান কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণ করেন।
একপর্যায়ে তিনি নিজেই শিক্ষার্থীদের সামনে দাঁড়িয়ে পাঠদান শুরু করেন। তাঁর পাঠদান মনোযোগ দিয়ে শোনে শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে সন্তোষ প্রকাশ করেন ইউএনও। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান আরও উন্নত করা, রিডিং দক্ষতা বাড়ানো এবং আনন্দময় পরিবেশে পাঠদানের বিষয়ে শিক্ষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেন তিনি।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ইউএনওর সরেজমিন পরিদর্শন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি সময় কাটানোয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উৎসাহিত হয়েছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের পড়া শোনা ও শ্রেণিকক্ষে সরাসরি পাঠদানে অংশ নেওয়ায় তাদের মধ্যে আনন্দ ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ইউএনও সানজিদা রহমান বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষাই একটি শিশুর ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের ভিত্তি তৈরি করে। তাই শুধু বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করলেই হবে না, শিক্ষার্থীরা কী শিখছে এবং কতটা শিখছে, সেটিও নিয়মিত যাচাই করতে হবে। বিশেষ করে রিডিং দক্ষতা ভালো হলে শিশুর শেখার আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস দুটোই বাড়ে। শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিটি শিশুর জন্য আনন্দময় ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।”
কেকে/সাশ