গাজীপুরের কাপাসিয়ায় চরদুর্লভ খান আঃ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল আরিফ সরকার প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ‘খোলা কাগজে সংবাদ’-এ ‘কাপাসিয়ায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এর প্রেক্ষিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন এবং অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ নেন।
তদন্ত কমিটির সদস্য গোলাম ফারুক ও সিরাজুল ইসলাম জানান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তারা এ বিষয়ে অফিস আদেশ পেয়েছেন। অভিযোগের প্রতিটি বিষয় যাচাই-বাছাই করে ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের ১১ জন শিক্ষক-কর্মচারীর স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ তাদের পক্ষে সিনিয়র শিক্ষক কফিল উদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হাফিজুল হকের কাছে জমা দেন।
অভিযোগে স্বাক্ষরকারীরা হলেন—সিনিয়র শিক্ষক গোলাম ফারুক, কবির উদ্দিন, শাহিনা বেগম, বোরহান উদ্দিন হোসেন, আলা উদ্দিন, সুফিয়া বেগম, মীরা রানী, সিরাজুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক কবির হোসেন, অফিস সহকারী জাহাঙ্গীর হোসেন ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী তাজ উদ্দিন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব যথাযথভাবে উপস্থাপন না করা, শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রাপ্য ভাতা পরিশোধে অনিয়ম, পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির অনুমতি ছাড়াই বিদ্যালয়ের তিনটি বড় গাছ বিক্রি, সময়মতো ম্যানেজিং কমিটি গঠন না করা এবং এনটিআরসির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের জন্য আবেদন না করার অভিযোগ।
অভিযোগকারী শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন খাত থেকে আদায় করা অর্থ নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিজের কাছে রেখেছেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের তিনটি গাছ বিক্রি করে পাওয়া অর্থ কোথায় ও কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, তারও কোনো সুনির্দিষ্ট হিসাব তাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের পর শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এখন তদন্ত কমিটির যাচাই-বাছাই ও প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নুরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
কেকে/এআই