তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার জনজীবন। দিন-রাতের বিভিন্ন সময়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিশু ও শিক্ষার্থীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় ব্যাঘাতের পাশাপাশি রাতে ঘুম ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিন ও রাতে দফায় দফায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। কখনো স্বল্প সময়ের জন্য বিদ্যুৎ এলেও আবার চলে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দিনের বেলায় প্রচণ্ড গরম এবং রাতে লোডশেডিংয়ের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় বৈদ্যুতিক পাখা ও অন্যান্য শীতলীকরণ যন্ত্র ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে অনেকেই ঘরের বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছেন।
লোডশেডিংয়ের সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়ও। দিনের বেলায় অতিরিক্ত গরমের কারণে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। আবার রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে আলো ও গরমের কারণে অনেক শিক্ষার্থী বই-খাতা নিয়ে বসতে পারছে না। সামনে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ও পড়াশোনার প্রস্তুতি থাকায় এ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, তীব্র গরমের সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে লোডশেডিংয়ের সময়সূচি ও ব্যবস্থাপনায় আরও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একদিকে তীব্র গরম, অন্যদিকে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং—দুইয়ে মিলে জনজীবনে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
কেকে/সাশ