পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালিশুরি ইউনিয়নে ফ্রান্স প্রবাসী এক নারীর থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও নির্মাণাধীন মার্কেট ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে কালিশুরি বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোসাম্মৎ হামিদা আক্তার (আঁখি) বলেন, ‘আমি ও আমার স্বামী মিজানুর রহমান খান দীর্ঘদিন ধরে ফ্রান্সে বসবাস করছি। কালিশুরি বাজারে বৈধ দলিলমূলে চার শতাংশ জমি ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছি। সম্প্রতি ওই জমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করলে বাধার সম্মুখীন হই।’
তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, ‘আমার চাচা নাসির উদ্দিন আহম্মেদ নির্মাণকাজে বাধা দিচ্ছেন। এক পর্যায়ে তিনি ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে ওই জমিতে নির্মাণকাজ করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন। পরে তিনি এবং তার ছেলে নাঈম শিকদার তারেক নির্মাণাধীন দেয়াল ভেঙে দেয়।’
হামিদা আক্তার আরও বলেন, ‘আমরা দেশের বাইরে থেকেও নিয়মিত খাজনা পরিশোধসহ জমিটি ভোগদখল করে আসছিলাম। বর্তমানে এ ঘটনায় আমি চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে আছি।’
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘চাচাতো ভাই নাঈম শিকদার আগে বাউফল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের একটি পদে ছিলেন। বর্তমানে ওই পদে না থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে হয়রানি করছে।’
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জমি দখলের চেষ্টা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন আহম্মেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার মা হালিমা খাতুনের ওই দাগ ও খতিয়ানে ১৮ শতাংশ জমি পাবেন। এ কারণে আমি মার্কেট নির্মাণে বাধা দিয়েছি।’
দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে কেন বাধা দেওয়া হয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি ৩০ বছর ধরে দলিল খুঁজেছি, কিন্তু পাইনি। যখন দলিল হাতে পেয়েছি, তখনই তাদের জানিয়েছি। তারা বিষয়টি আমলে নেয়নি। তাই মার্কেট নির্মাণে বাধা দিয়েছি।’
চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমি তাদের কাছে কোনো চাঁদা দাবি করিনি এবং চাঁদা চাইনি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এ অভিযোগ আনা হয়েছে।’
নাঈম শিকদার তারেকও চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি ধুলিয়া ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচন করব। এ জন্য কারও কাছে হাত পাতার প্রয়োজন নেই, আমার নিজেরই টাকা আছে। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে যে আমি কারও কাছে টাকা চেয়েছি, তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভুয়া ও বানোয়াট। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য এ অভিযোগ করা হয়েছে।’
কেকে/এআই