‘বিশ্বজুড়ে ঐক্য গড়ি, হাতির জীবন রক্ষা করি’— প্রতিপাদ্যকে বান্দরবানে বিশ্ব হাতি দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
বুধবার (১১ আগস্ট) সকালে দিবসটি উপলক্ষ্যে বান্দরবান সদর উপজেলার টংকাবতী ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি টংকাবতী এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পরে সভাকক্ষে গিয়ে শেষ হয়।
র্যালিতে ব্যানার ও প্লাকার্ড হাতে নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ অংশ নেয়। পরবর্তী বান্দরবান বনবিভাগের টংকাবতী রেঞ্জের আয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদের সভাকক্ষে হাতি সংরক্ষণ ও মানুষ-হাতির সংঘাত কমাতে করণীয় বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বান্দরবানের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. তৌফিকুল ইসলাম। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা হীরামনির সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন টংকাবতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাং য়ং ম্রো(প্রদীপ), সহকারী বন সংরক্ষক রিটা আক্তার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রেঞ্জ অফিসার রাফি-উদ-দৌলা সরদার।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বন উজাড়, আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া এবং খাদ্যের সংকটের কারণে হাতি ও মানুষের মধ্যে সংঘাত বাড়ছে। হাতির আবাসস্থল সংরক্ষণ, বন রক্ষা এবং স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার মাধ্যমে এই সংঘাত কমানো সম্ভব। হাতি সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি বন্যপ্রাণী রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, হাতি যেমন দেশের জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তেমনি হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করাও জরুরি। মানুষ ও হাতির সহাবস্থান নিশ্চিত করতে বন বিভাগ ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
আলোচনা সভা শেষে বান্দরবানের টংকাবতী রেঞ্জে হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্থ ১২টি পরিবারকে বনবিভাগের পক্ষ থেকে ১ লাখ ৮৭ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণের চেক দেওয়া হয়।
কেকে/এআই