গাজীপুর সাফারি পার্কে দুই দিনে দুটি হাতির মৃত্যু হয়েছে। মৃত হাতির একটি রাজু বাহাদুর। প্রায় আড়াই মাস ধরে অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ৭ আগস্ট সকালে তার মৃত্যু হয়। এর আগের দিন ৬ আগস্ট ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে ভুগতে থাকা অপর হাতিটি মারা যায়।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে হোয়াটসঅ্যাপে খোলা কাগজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২৪ মে হাতিশালায় শিকলে বাঁধা অবস্থায় রাজু বাহাদুরের ওপর পার্কের অন্য একটি হাতি আক্রমণ করে। এতে সে মাটিতে পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে ক্রেনের সাহায্যে তাকে সরিয়ে বালুর ওপর রাখা হয়।
চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে দেখতে পান, রাজু বাহাদুরের একটি পা ভেঙে গেছে এবং অন্য পায়েও গুরুতর আঘাত রয়েছে। আহত হওয়ার পর থেকে সে আর দাঁড়াতে পারেনি। এরপর থেকে তাকে আখসহ বিভিন্ন খাবার দেওয়ার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।
শারীরিক অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় গত ৪ জুন থাইল্যান্ড থেকে বিশেষজ্ঞ বন্যপ্রাণী চিকিৎসকদের আনা হয়। দেশের অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত একাধিক মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানেও তার চিকিৎসা চলে।
সাফারি পার্কের বন্যপ্রাণী চিকিৎসক হাতেম সাজ্জাদ মো. জুলকার নাইন বলেন, “রাজু বাহাদুরের একটি পা ভেঙে যাওয়ায় সে দাঁড়াতে পারছিল না। তার শারীরিক অবস্থাও ভালো ছিল না। তাকে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।”
পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান বলেন, “৭ আগস্ট সকালে হাতিশালায় কর্মীরা রাজু বাহাদুরকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। এর আগের দিন ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে অসুস্থ থাকা অপর হাতিটিও মারা যায়।”
তিনি জানান, দুটি হাতির মৃত্যুর পর তাদের দেহের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। পরে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে হাতি দুটির মরদেহ পার্কের ভেতরেই মাটিচাপা দেওয়া হয়।
দুটি হাতির মৃত্যুর পর বর্তমানে গাজীপুর সাফারি পার্কে হাতির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আটটিতে।
কেকে/সাশ