শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬,
৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার নতুন দিগন্তে চট্টগ্রাম ওয়াসা      দলের কাণ্ডারি থেকে রাষ্ট্রের অভিভাবক      তামিমকে টপকে টেস্টে মোমিনুলের রেকর্ড      সবার মতামত নিয়েই সংবিধান সংশোধন হবে : চিফ হুইপ      রাষ্ট্রপতি নির্বাচন : ইসিতে তিনটি মনোনয়নপত্র দাখিল      মগবাজারে বহুতল ভবনে আগুন      ১৫ আগস্ট ঘিরে সারাদেশে র‍্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
এসএসসি পরীক্ষায় ফল নিম্নমুখীর জন্য দায়ী কে?
রেজাউল করিম খোকন
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৩ এএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

এসএসসি পরীক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলক উচ্চ পাসের হারের পর দুই বছর ধরে ফলাফল কিছুটা নিম্নমুখী দেখা যাচ্ছে। এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার নেমে এসেছে ৬৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশে, যা ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছরের তুলনায় পাসের হার আরও কমেছে। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে প্রায় ১৯ হাজার। ফলাফল বিশ্লেষণে এবারও ইংরেজি ও গণিতে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতার বিষয়টি উঠে এসেছে। কুমিল্লা ছাড়া আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডেই ইংরেজিতে পাসের হার ৮০ শতাংশের নিচে। গণিতেও কয়েকটি বোর্ডে ফল তুলনামূলক ভালো হয়নি। দুটি বিষয়ই বাধ্যতামূলক হওয়ায় এসব বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার প্রভাব সরাসরি পড়েছে সার্বিক পাসের হারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মানবিক বিভাগের দুর্বল ফল।

সাধারণত প্রশ্নের ধরন, পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও উত্তরপত্র মূল্যায়নের পদ্ধতিও পরীক্ষার ফলাফলে প্রভাব ফেলে। আবার প্রায় ১০ বছর বিদ্যালয়ে পড়ার পর পাঁচ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর উত্তীর্ণ হতে না পারা এবং ইংরেজি-গণিতে বড় দুর্বলতা বিদ্যালয়ে শিখন মান, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের শিখনঘাটতি নতুন করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বেড়েছে শতভাগ অকৃতকার্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও।

এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়া এবং কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে একজনও পাস না করার ঘটনা বিদ্যালয়ভিত্তিক শিখন মান ও প্রস্তুতির ঘাটতির প্রশ্নও সামনে এনেছে। দীর্ঘ সময় উচ্চ পাসের হার থাকার পর টানা দুই বছর ফল কমার এ প্রবণতা মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তন, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি এবং বিদ্যালয় পর্যায়ের শিখনঘাটতি—সব কটিরই নতুন করে পর্যালোচনা দরকার। তবে এবারের ফলাফলকে খারাপ বলতে রাজি নন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, এবারের ফল সুন্দর হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মন খুলে গান গাওয়া যায়, পরীক্ষার খাতায় নম্বর দেওয়া যায় না।’ প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার উত্তরপত্র নির্মোহভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। ফলে যে শিক্ষার্থী যেভাবে পড়াশোনা করেছে, নির্মোহভাবে সেভাবেই মূল্যায়ন হয়েছে।

যদিও মূল্যায়নকারী কর্তৃপক্ষ দাবি করছে যে খাতা মূল্যায়ন সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু সমস্যার মূলে রয়েছে বহুমুখী কারণ। মফস্বল অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাব একটি উল্লেখযোগ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। পাশাপাশি, ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বল ফলাফলও ফলাফলকে প্রভাবিত করেছে। শিক্ষকদের চাকরি, বেতন-ভাতা নিয়ে প্রায়ই আন্দোলনে নামতে দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের স্বার্থও একটি প্রাসঙ্গিক ইস্যু; তাদের সম্মানজনক বেতন-ভাতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার জন্য প্রায়ই তাদের আন্দোলনে মুখর হতে দেখা যায়। তাই কেবল একটি নয়, বরং সমস্যার সব দিকই এখন সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষণের দাবি রাখে। ২০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে না পারার ঘটনা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।

এ প্রসঙ্গে একটি মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপিত হয়: শিক্ষার্থীদেরই-বা দোষ কতটুকু? তাদের এ ব্যর্থতার পেছনে ব্যবস্থাপনার কোন স্তরে ঘাটতি বা গলদ রয়ে গেছে, তা সন্ধান করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের গতানুগতিক পড়ার পরিবর্তে গভীরভাবে বুঝে শেখার ওপর জোর দেওয়া দরকার। কার্যকরী ও যুক্তিভিত্তিক প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, যা প্রকৃত জ্ঞান যাচাই করতে হবে। কোনো মহলের চাপে নমনীয় না হয়ে কঠোর ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নেওয়ার ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও বাড়িতে সন্তানের ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন ব্যবহারের সময়সীমা ও তদারকি করা একান্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। স্কুল-কলেজে ডিজিটাল লিটারেসি ও সাইবার সিকিউরিটি সম্পর্কে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালু করতে হবে অবিলম্বে।

শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের ব্যবস্থা করা উচিত, যাতে প্রযুক্তির বাইরেও বিকাশের সুযোগ পায়, তেমন ব্যবস্থা পাঠ্যসূচিকে আরও আকর্ষণীয় ও জীবনমুখী করে তুলতে পারে। এটা এই মুহূর্তে সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। সব স্কুলের সিলেবাস এবং শিক্ষাক্রম প্ল্যান অনলাইনে থাকতে হবে। ব্যবহারিক ও প্রয়োগভিত্তিক শিক্ষার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে স্কুল-কলেজে লাইব্রেরি ও পড়ার ক্লাব সক্রিয় করতে হবে। শহরের পাশাপাশি মফস্বলের এবং গ্রামাঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের জন্য একটি সময়বদ্ধ ও স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। শিক্ষকদের জন্য সম্মানজনক বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করা দরকার। 

বিভিন্ন বিদ্যালয়ের স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের আগ পর্যন্ত আপাতত খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে হলেও শিখন-ঘাটতি পূরণ করতে হবে, কোনো অবস্থাতেই ক্লাস মিস করা যাবে না। পরীক্ষাপদ্ধতির কিছুটা পরিবর্তন দরকার, নিয়মিত পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এতে তাদের বিভিন্ন বিষয়ে দুর্বলতা যাচাই করে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এর ফলে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অকৃতকার্যের হার কমবে। এ পরিস্থিতি একদিনে তৈরি হয়নি। এটি একটি দুষ্টচক্রের ফল। পরিবারের শৈথিল্য সন্তানের হাতে মোবাইল তুলে দিয়ে আসক্তির পথ খুলে দেয়। এ আসক্তি পড়াশোনার আগ্রহ ও মনোযোগ কেড়ে নিয়ে শর্টকাট মানসিকতার জন্ম দেয়।

পরিশেষে, যখন নকলের সুযোগ বন্ধ করে কঠোর মূল্যায়ন করা হয়, তখন এই সম্মিলিত ব্যর্থতার বাস্তব চিত্রটিই আমাদের সামনে প্রকাশ পায়। শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো জ্ঞান অর্জন, চরিত্র গঠন ও দক্ষতা বিকাশ; কোনোভাবেই শুধু একটি সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা নয়। তাই শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও নীতিনির্ধারক সবারই উচিত এ ধ্বংসাত্মক চর্চার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। এ দায়বদ্ধতা শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একার কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। বরং শিক্ষা ব্যবস্থাপনা, শিক্ষক সম্প্রদায় ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই এই অবস্থার জন্য কমবেশি দায়ী। তাই সার্বিক সমাধানের লক্ষ্যে সব স্তরের দায়িত্বশীলদের সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

এই প্রজন্মকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব কার? কেবল পরিবার, নাকি সমাজ ও শিক্ষাব্যবস্থারও? অস্বীকার করার উপায় নেই, শিক্ষার অনেকগুলো লক্ষ্যের মধ্যে একটি হলো পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জন করা, কিন্তু বর্তমানে সেটিই শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক নির্বিশেষে বেশির ভাগেরই একমাত্র লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে! গণিত বোঝা ও শেখার চেয়ে পরীক্ষায় পাস করাটাই এখন শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের কাছে মুখ্য। এমন অবস্থায় গণিত না বুঝে শুধু মুখস্থ করার প্রবণতায় এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে এমন ধস। সাম্প্রতিক সময়ে এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে প্রশ্নপত্রের কিছু ভুল এবং আচমকা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষার্থীদের মারাত্মক সমস্যাকে ইস্যু করে একশ্রেণির শিক্ষার্থীর রাস্তায় নেমে আন্দোলন করে সড়ক অবরোধের ঘটনা আমরা দেখেছি। তখন রাস্তায় আন্দোলনরত একজন শিক্ষার্থীকে সাংবাদিক যখন প্রশ্ন করেন এইচএসসির পুরো অর্থ কী, তখন আন্দোলনরত সেই শিক্ষার্থী এইচএসসির অর্থ বলতে ব্যর্থ হয়।

আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিওতে এটা দেখেছি। এর মাধ্যমে সহজেই আমাদের শিক্ষার্থীদের অনেকেরই জ্ঞানের পরিধি সম্পর্কে উপলব্ধি করতে পারি। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা হলেও বাস্তবতা এরকমই। আমাদের সরকার এবং সেইসঙ্গে পরিবারগুলোও গত কয়েক বছরে আগের চেয়ে পড়াশোনার পেছনে অনেক বেশি টাকা খরচ করছে, অনেক ক্ষেত্রে করতে বাধ্য হচ্ছে। যদিও হয়তো উন্নত দেশগুলোর মতো অতটা নয়। অস্বীকার করার উপায় নেই, ছেলেমেয়েরা শিখছে অতি সামান্য, শিক্ষার মান অনেকটাই নিম্নগামী। দেখা গেছে, রাজধানীসহ দেশের প্রধান প্রধান শহর এবং মফস্বলের অল্প কিছু বিদ্যালয় বাদে বেশির ভাগ প্রাথমিক-মাধ্যমিক স্কুল থেকে যারা বেরোচ্ছে, তাদের অনেকেই শুদ্ধ উচ্চারণে পড়া, লেখা এবং অঙ্ক কষার গোড়ার কাজগুলোই পারছে না, ইংরেজিতে শুদ্ধভাবে একটি রচনা বা আবেদন লিখতে পারছে না।

এর একটি কারণ হিসেবে বলা যায়, শিক্ষকদের একটা অংশ তাদের নিজেদের পড়ানোর বিষয়টি সম্পর্কে নিজেরাই তেমন জানেন না, যে কারণে শিক্ষার্থীদের বোঝানোতে ঘাটতি থেকে যায়। কিন্তু শিক্ষকরা বোঝাতে না পারার হয়তো এটি একটি কারণ বটে, কিন্তু প্রধানতম কারণ হিসেবে আমার মনে হয়, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা কে কতটা বুঝল, তা নিয়ে শিক্ষক-অভিভাবক নির্বিশেষে তেমন কেউই বিশেষ একটা মাথা ঘামায় না। কারণ, আমাদের শিক্ষা কারিকুলামে গোটা পড়াশোনাটাই সিলেবাসমুখী, শিক্ষার্থীমুখী নয়। দ্বিতীয়ত, নবীন শিক্ষকদের হাতে-কলমে শিক্ষা পাওয়ার ঘাটতি তো রয়েছেই। আমাদের দেশে বিদ্যায়তনগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য এক ধরনের বাধ্যতার পরীক্ষা, দক্ষতার পরীক্ষা নয়। কোনো সমস্যার সমাধান করা, যুক্তি দিয়ে মত প্রতিষ্ঠা, ভাষায় আবেগের প্রকাশ—এগুলো শিক্ষার্থীরা পারছে কি না, তা নিয়ে আমাদের অনেক প্রতিষ্ঠানই মাথা ঘামায় না।

মনে রাখতে হবে, কোনো শিক্ষার্থীরই এই ক্ষমতা থাকে না যে, সে নিজে নিজেই তার বিষয়গুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পারবে। তাই শিক্ষার্থীদের গণিত ও ইংরেজি বোঝানোর মূল দায়িত্বটা বর্তায় তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর। কিন্তু আমাদের দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিয়েই যেন তাদের দায় সারে। সেই পরীক্ষার ভিত্তিতে সে কতটা শিখতে পারল বা পারল না, তা নির্ধারিত করা হয়। যে পারল না, তাকে অনায়াসে ‘অকৃতকার্য’ ঘোষণা করিয়ে দেওয়াটাই আমাদের দেশে শিক্ষার্থী মূল্যায়নের মাপকাঠি। যে শিক্ষার্থী পরীক্ষায় পাস করতে ব্যর্থ হলো, তার ব্যর্থতা কী কী কারণে—এ ব্যবস্থা কিন্তু বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই বিশ্লেষণ করে না।

শিক্ষার্থী তো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসে শিখতে। এখন সে যদি খারাপ ফলাফল করে, তার দায়টা তো সবার আগে বর্তানো উচিত আমাদের প্রচলিত এ শিক্ষাব্যবস্থার ওপর। প্রায় শিক্ষাবিদরাই বলেন, শিক্ষার্থীরা আসলে পরীক্ষায় একা খারাপ ফলাফল করে না, খারাপ ফলাফল করে প্রতিষ্ঠান, খারাপ করেন শিক্ষক, অকৃতকার্য হয় শিক্ষাব্যবস্থা। অথচ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার দায় একা ঘাড়ে নিতে হয় শিক্ষার্থীকে। এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্যদের অনেকেরই প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া এখানেই হয়তো বন্ধ হয়ে যেতে পারে, বাকি জীবনে এ ব্যর্থতার দায় বহন করতে হবে। এর জন্য অনেকের জীবনে বিপর্যয়ও নেমে আসতে পারে। এমন খারাপ ফলাফল রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি, দেশের মানবসম্পদেরও অপচয়। এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করা মানে একজন পরীক্ষার্থীর বাকি জীবনের দুঃখবোধ। এই ব্যথা, বেদনা ও ক্ষতি যাতে সর্বনিম্ন পর্যায়ে আনা যায়, সে বিষয়ে রাষ্ট্র ও সরকার তো বটেই, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমেরও যথাযথ ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।

লেখক : কলামিস্ট

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  এসএসসি পরীক্ষা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close