রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় নেশাগ্রস্ত ছেলের হাতে তারা খাতুন (৪৬) নামে এক নারী নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে রাজু বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। তবে এটি হত্যাকাণ্ড নাকি সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু-তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত তারা খাতুন উপজেলার কসবামাজাইল ইউনিয়নের নাদুরিয়া গ্রামের জাবেদ বিশ্বাসের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে কসবামাজাইল ইউনিয়নের নটাখোলা এলাকার সুবর্ণখোলা ইটভাটার সামনে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। এ সময় এলাকাবাসী নিহতের ছেলে রাজু বিশ্বাসকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, রাজু বিশ্বাস (২৮) দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকে আসক্ত ছিলেন। নেশাজনিত কারণে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। ছেলের চিকিৎসার জন্য তারা খাতুন মোটরসাইকেলে করে কুষ্টিয়া জেলার বনগ্রাম এলাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। একপর্যায়ে রাজু তার মাকে সঙ্গে না নিয়ে খালার বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন।
পুলিশ জানায়, তারা খাতুনের সঙ্গে তার স্বামী জাবেদ বিশ্বাসের সম্পর্কও ভালো ছিল না। ঘটনার পর থেকে জাবেদ বিশ্বাস পলাতক রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, রাজু মাদকাসক্ত ছিলেন। রাজুর মোটরসাইকেল থেকে পড়ে তারা খাতুনের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। তবে এমন ঘটনা ঘটে থাকলেও রাজু কাউকে বিষয়টি জানাননি।
পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মাঈনুল ইসলাম বলেন, “নাদুরিয়া ঘাট এলাকা থেকে তারা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এটি হত্যাকাণ্ড নাকি সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু, তা তদন্ত করা হচ্ছে।”
ওসি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হকসহ গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
কেকে/সাশ