কথা ছিল ঈদের আগে টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরবেন। এ জন্য গত সোমবার পাড়ি জমিয়েছিলেন ঢাকায়। সেখানে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করে ফিরে আসবেন। সে আয়ের টাকায় মেরামত করবেন নিজের বাড়ি। পরিবার নিয়ে উদযাপন করবেন ঈদ আনন্দ। কিন্তু সে আকাঙ্ক্ষা আর পূরণ হলো না বাক প্রতিবন্ধী মেহেদী হাসানের (২৫)।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বারিধারায় গাড়িচাপায় মারা যায় সে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় সোনারায় ইউনিয়নের হাজিপাড়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয় তার।
বুধবার বেলা ১২টার দিকে একটি গাড়িতে তার লাশ এসে পৌছায় গ্রামের বাড়িতে। এ সময় শোকের ছায়া নামে গ্রামে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলেন, মেহেদী হাসানের মা মোছা. মিনু বেগম। তিনি ওই গ্রামের দিনমজুর মো. এরশাদুল হকের ছেলে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, বাকপ্রতিবন্ধী মেহেদী হাসান ডোমার সরকারি কলেজের বিএ (পাশ) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরিবারের স্বচ্ছলতা আনতে নির্মাণ শ্রমিকের কাজের পাশাপাশি তিনি কাগজের ফুল বানিয়ে বিভিন্ন গ্রামীণ মেলা ও দোকানে বিক্রি করতেন। দুই ভাই এক বোনের দ্বিতীয় ছিলেন মেহিদী হাসান। বড় ভাই ও ছোট বোনের বিয়ে হয়েছে। বাবা মায়ের সঙ্গে থাকতেন মেহেদী।
একই গ্রামের মেহেদী হাসানের ফুপুতো ভাই সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘তাদের ১০ শতাংশের ভিটেমাটিই শেষ সম্বল। মেহেদী হাসান ও তার বাবার দিনমজুরির আয়ে চলে তাদের সংসার। সে নির্মাণ শ্রমিকের কাজে প্রায় সময়ে ঢাকায় যেত। গত সোমবার রাতে সে ঢাকায় যায়। কাজে যোগ দেওয়ার আগেই মঙ্গলবার বিকালে ঢাকার বারিধারার একটি মসজিদে নামাজ আদায় করে ফুটপাতে বসে ছিল সে। এ সময় একটি প্রাইভেট কার তার ওপর উঠে যায়। এতে সে ঘটনাস্থলে নিহত হন।’
বাবা এরশাদুল হক বলেন, ‘সোমবার রাতে আমি নিজে তাকে ঢাকার গাড়িতে তুলে দিলাম। আজকে তার লাশ আসলো, এটা আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। এভাবে আমার বাবাকে (ছেলে) হারাবো জানলে তাকে ঢাকায় যেতে দিতাম না। এখন আমার সব শেষ হয়ে গেল।’
বাড়ির অদূরে হাজীপাড়া কবরস্থানে নামাজে জানাজা শেষে মেহেদী হাসানের দাফন সম্পন্ন হয়।
সোনারায় ইউয়িন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গোলাম ফিরোজ চৌধুরী বলেন, ‘মেহেদী হাসান লেখাপড়ার পাশাপাশি পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতো। সে একজন বাকপ্রতিবন্ধী হলেও তার মধ্যে অনেক প্রতিভা ছিল। একটি দুর্ঘটনায় পরিবারটির সব স্বপ্ন নিমেশে মিশে গেল।’
কেকে/এআই