কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলা তুলে নিতে এক নারী ও তার স্বামীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় দুইজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুইজনকে আসামি করে বুড়িচং থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মোসা. তাছলিমা বেগম।
অভিযুক্তরা হলেন বুড়িচং উপজেলার শাহদৌলতপুর গ্রামের সোলেমান ভূইয়া (২৫) ও চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া এলাকার বিল্লাল হোসেন (৩৫)। অভিযোগকারী তাছলিমা বেগমও শাহদৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী মো. নজরুল ইসলাম অভিযোগের অন্যতম সাক্ষী।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তাছলিমা বেগমের পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে গত ১৮ এপ্রিল বিকেল ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে তার ছেলে তানভীর আহমেদকে (২২) শাহদৌলপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ভাঙাড়ির দোকানে কৌশলে ডেকে নিয়ে পেট্রোলজাতীয় পদার্থ দিয়ে আগুন লাগিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় তাছলিমা বেগম আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি সিআর মামলা নম্বর ৩৫০/২৬ (বুড়িচং) হিসেবে নথিভুক্ত হয়। গত ২৮ জুন আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন। বর্তমানে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), কুমিল্লায় তদন্তাধীন রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাছলিমার অভিযোগ, আদালতে মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্তরা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন।
সর্বশেষ গত ১০ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের শাহদৌলতপুর গ্রামে তার বাড়ির সামনের রাস্তায় সোলেমান ভূইয়া ও বিল্লাল হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই ব্যক্তি এসে তাকে গালাগাল করেন। এ সময় মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে তাছলিমা বেগম বলেন, “মামলা তুলে না নিলে মৃত তানভীরের মতো তার অপর সন্তান ও স্বামীকেও প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে।”
প্রতিবাদ করলে সোলেমান ও বিল্লাল তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পরে তার স্বামীসহ স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা আবারও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তাছলিমা বেগম।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সোলেমান ভূইয়া ও বিল্লাল হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
কেকে/সাশ