দারিদ্র্যকে জয় করে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করা বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় মেধাবী শিক্ষার্থী তাওহীদ ইসলামের পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের তরুণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. রাজু হাওলাদার পলাশ।
তাওহীদ উপজেলার সদর ইউনিয়নের জবেদপুর গ্রামের দিনমজুর মো. ফারুক হোসাইনের ছেলে। তার মা রিমা খানম গৃহিণী। অভাব-অনটনের সংসারে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সে।
তাওহীদ জবেদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে। পরে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার আগ্রহ থাকলেও বিদ্যালয়টিতে বিজ্ঞান শাখা না থাকায় সরকারি বানারীপাড়া মডেল ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন (পাইলট)-এ ভর্তি হতে চায়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি নিয়ে তাকে নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি করা হয়।
সেখান থেকেই শুরু হয় তাওহীদের নতুন লড়াই। অভাব-অনটনের মধ্যেও পড়াশোনার প্রতি গভীর মনোযোগ ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সে এগিয়ে যেতে থাকে। নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায়ও ভালো ফল করে। এর ধারাবাহিকতায় এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে তাওহীদ।
তবে ভালো কলেজে ভর্তি ও উচ্চশিক্ষার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিল তাওহীদ ও তার পরিবার। দিনমজুর বাবার সামান্য আয়ে সংসারের ব্যয় মেটানোর পর ছেলের কলেজে ভর্তি, বই-খাতা, শিক্ষা উপকরণ ও যাতায়াতের খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাওহীদের পড়াশোনা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ অ্যাডভোকেট রাজু হাওলাদার পলাশের নজরে আসে। এরপর তিনি তাওহীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ভালো কলেজে ভর্তি করানোসহ তার পড়াশোনার সার্বিক দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন।
এতে তাওহীদ ও তার পরিবারের দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা অনেকটাই কেটে গেছে। তারা অ্যাডভোকেট রাজু হাওলাদার পলাশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
অ্যাডভোকেট রাজু হাওলাদার পলাশ বলেন, “অর্থাভাবে আমার জন্মভিটার কোনো মেধাবী সন্তান উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে—এটি আমার পক্ষে মেনে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টের। দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই জাতীয় সম্পদ এবং আগামী দিনের অগ্রযাত্রার প্রতীক। সবার সহযোগিতায় তাওহীদ ভালো কিছু করতে পারলে আমাদের সমাজ আরও বিকশিত হবে এবং অন্যরাও অনুপ্রাণিত হবে।”
কেকে/সাশ