জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের মহব্বতপুর পদ্মপুকুর এলাকায় চোর সন্দেহে দুই যুবককে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এতে লাল বাদশা (১৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। একই স্থান থেকে মাইদুল (১৮) নামে অপর এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত লাল বাদশা উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের আলমপুর আদর্শ গ্রামের জামালের ছেলে। আহত মাইদুল একই এলাকার ইব্রাহিমের ছেলে। তারা দুজন বন্ধু বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে মহব্বতপুর পদ্মপুকুর এলাকায় দুই যুবককে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে ক্ষেতলাল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাল বাদশাকে মৃত অবস্থায় এবং মাইদুলকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে মাইদুলকে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
জীবিত উদ্ধার হওয়া মাইদুল জানান, জামালগঞ্জ চারমাথা এলাকার একটি তেলের পাম্পের কাছ থেকে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ডেকে একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাদের মারধর ও নির্যাতন করা হয়। পরে তাদের মাঠের পাশে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। ওই ব্যক্তিদের সামনে পেলে তিনি চিনতে পারবেন বলেও জানান মাইদুল। তবে তাদের নাম বা বাড়ির ঠিকানা তিনি জানেন না।
নিহত লাল বাদশার পরিবারের দাবি, তিনি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং চোখেও কম দেখতেন। মাইদুলেরও কিছুটা জ্ঞান-বুদ্ধির সমস্যা রয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, চোর সন্দেহে দুই যুবককে মারধর ও নির্যাতন করা হয়ে থাকতে পারে। একপর্যায়ে তাদের মাঠের পাশে ফেলে রাখা হয়। সেখানে লাল বাদশার মৃত্যু এবং মাইদুল অচেতন হয়ে পড়েন। তবে হামলার কারণ এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একজনকে মৃত এবং অপরজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চোর সন্দেহে তাদের মারধর করা হয়ে থাকতে পারে। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “মাইদুলের দেওয়া তথ্য ও অন্যান্য বিষয় যাচাই করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে নিহত লাল বাদশার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কেকে/সাশ