শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬,
৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: বড় ধাক্কা খেল ভারত      বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে রিজভীসহ চার নেতা      হামের উপসর্গ নিয়ে আরও আট শিশুর মৃত্যু      রামিসা হত্যা মামলার শুনানি হাইকোর্টে রোববার      তারেকের ভারত সফর ঘিরে নতুন সমীকরণ      গ্যাস-বিদ্যুতে অচলাবস্থা      আজ শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী      
দেশজুড়ে
রাজশাহীতে বিশ্বমানের হাসপাতাল-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে : আরডিএ চেয়ারম্যান
শ.ম সাজু ও হাবিবুর রহমান, রাজশাহী
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩৭ পিএম আপডেট: ১৫.০৮.২০২৬ ৭:৪৫ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মহানগর বিএনপির সহসভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ সুইট। ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে উঠে আসা সুইট এর আগে রাজশাহী মহানগর ছাত্রদল ও যুবদলের সভাপতি ছিলেন। গত ১৪ জুন তিনি আরডিএর চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাসের মাথায় দৈনিক খোলা কাগজের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে অপরিকল্পিত নগরায়ন ও অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ রোধকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন আবুল কালাম আজাদ সুইট।

তার মতে, নগরীর অধিকাংশ ভবনই সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতিমালা না মেনে নির্মিত হয়েছে। ফলে নিরাপদ নগরায়নের ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে নানা জটিলতা। রাজশাহী নগরীর সম্প্রসারণ, নতুন মাস্টারপ্ল্যান, ভবনের নকশা অনুমোদন, অনুমোদনের অতিরিক্ত তলা নির্মাণ বন্ধ, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আবাসন, আরডিএ মার্কেটের আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন এ সাক্ষাৎকারে।

খোলা কাগজ: আরডিএর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আপনার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কোনটি বলে মনে হচ্ছে?

আবুল কালাম আজাদ সুইট: অধিকাংশ মানুষই সরকারের আইন-নীতিমালা মেনে বাসভবন তৈরি করেননি। যত্রতত্র ও নিয়মবহির্ভূতভাবে ভবন তৈরি করা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে কোনো প্ল্যানও নেওয়া হয়নি। ফলে কোথাও পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই, কোথাও আলো-বাতাসের ব্যবস্থা নেই। আইন অনুযায়ী ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রেস যে পরিমাণ জায়গা ছেড়ে দেওয়ার কথা, অনেকেই তা রাখেননি। এমনকি একে অন্যের সীমানার মধ্যে ভবনের ছাদ বাড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এসব কারণে অনেক প্রতিনিয়ত নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

খোলা কাগজ: এসব জটিলতা নিরসনে কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

আবুল কালাম আজাদ সুইট: সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, আমরা যখন কাউকে নোটিশ দিয়ে বলছি আপনি আইন-বহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণ করেছেন, তখন প্রথমবার সাড়া দিলেও দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার আর সাড়া দিচ্ছেন না। একপর্যায়ে আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন। তখন বিষয়টি মামলায় চলে যাচ্ছে। আর মামলা হলে আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আরডিএ কিছু করতে পারে না। মামলা দিনের পর দিন, বছরের পর বছর চলতে থাকে। ওই ব্যক্তি তখনও একইভাবে বসবাস করেন এবং পাশের মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকেন। ফলে আমরা একটি বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ি।

খোলা কাগজ: সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, গণপূর্ত অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, ওয়াসাসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আরডিএর সমন্বয় কতটা হচ্ছে?

আবুল কালাম আজাদ সুইট: সত্য কথা বলতে, ঠিকমতো হচ্ছে না।

খোলা কাগজ: সমস্যাটা কোথায়?

আবুল কালাম আজাদ সুইট: অনেক জটিলতা আছে। কারও ইগোর সমস্যা, কারও আর্থিক সমস্যা, মন্ত্রণালয়ের নানা জটিলতা রয়েছে। আবার একেক বিভাগে একেক সময়ে অর্থ বরাদ্দ হয়। আমি একটি রাস্তা করলাম, পরে ওয়াসা এসে সেটি কেটে দিলো, এ ধরনের ঘটনা ঘটে। মূল সমস্যা হলো সমন্বয়ের অভাব।

খোলা কাগজ: সমন্বয়ের অভাবে তো উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর সমাধান কীভাবে সম্ভব?

আবুল কালাম আজাদ সুইট: অবশ্যই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি। তবে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের যেমন সদিচ্ছা আছে, তেমনি সুন্দর নগর গড়ে তোলার পরিকল্পনা ও চিন্তাভাবনা সবার মধ্যে থাকতে হবে। দেশটা আমাদের, এ দেশের জনগণও আমাদের। তাই স্থাপনাগুলো আমাদেরই পরিকল্পিত ও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে হবে। এই পরিকল্পনার সঙ্গে সবাইকে একাত্ম হতে হবে।

খোলা কাগজ: আগামীতে রাজশাহী মহানগর কোন দিকে সম্প্রসারিত হবে? এ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে?

আবুল কালাম আজাদ সুইট: রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন নওহাটা, কাশিয়াডাঙ্গা পর্যন্ত যে শেষ লাইন রয়েছে, সেই লাইন পর্যন্ত আমরা ১০০ ফুট প্রশস্ত একটি সড়ক করার পরিকল্পনা নিয়েছি। এটি আট লেনের হবে। উত্তর দিকে এ সড়কটি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই আমরা মনে করছি, রাজশাহী শহর উত্তর দিকে সম্প্রসারিত হবে।

খোলা কাগজ: নতুন আবাসিক এলাকা, শিল্পাঞ্চল, বাণিজ্যিক এলাকা, শিক্ষা-স্বাস্থ্যসেবা অঞ্চল ও সবুজ নগরায়নের জন্য আলাদা জোন করার পরিকল্পনা আছে কি?

আবুল কালাম আজাদ সুইট: এখনো আলাদাভাবে সেই পরিকল্পনা নেই। তবে নতুন যেসব আবাসন তৈরি বা পরিকল্পনা করা হচ্ছে, সেখানে ঈদগাহ, খেলার মাঠ, গোরস্থান, মসজিদ-মন্দির ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাখার চেষ্টা করছি। ইনশাআল্লাহ, আগামীতে এগুলো বাস্তবায়ন হবে।

খোলা কাগজ: রাজশাহীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবভিত্তিক মাস্টারপ্ল্যানের কী অবস্থা?

আবুল কালাম আজাদ সুইট: অবশ্যই মাস্টারপ্ল্যান করা হচ্ছে। আগের যে মাস্টারপ্ল্যান রয়েছে, সেটিকে আপগ্রেড করার কাজ ইতিমধ্যে চলছে। নতুন করে সাজানো হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এটি শেষ হতে পারে।

খোলা কাগজ: নতুন মাস্টারপ্ল্যানে কী কী বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকছে?

আবুল কালাম আজাদ সুইট: পরিকল্পিত রাস্তা, খেলার মাঠ, স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ-সুবিধা এসব থাকবে। আমরা নতুন একটি স্টেডিয়াম করার চিন্তাভাবনাও করছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আরও সম্প্রসারণের চেষ্টা করছি। যেমন, রাজউকের ‘রাজউক স্কুল অ্যান্ড কলেজ’-এর আদলে রাজশাহীতে ‘আরডিএ স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া রাজশাহীকে স্বাস্থ্যসেবার দিক থেকে এগিয়ে নিতে কাজীহাটার পুরোনো আরডিএ ভবনটিতে ভারত ও চীনের সঙ্গে আলোচনা করে বিশ্বমানের একটি হাসপাতাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও নতুন চিন্তা করছি। চীনের সঙ্গে আলোচনা চলছে বর্জ্যকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়, সে ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

খোলা কাগজ: ভারত ও চীনের সঙ্গে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা কি হয়েছে? তাদের কোনো প্রতিনিধি আসছেন?

আবুল কালাম আজাদ সুইট: চলতি মাসেই ভারতের একটি দল আসবে। চীনের একটি দল আসার কথা রয়েছে। তারা এসে আমাদের জায়গাগুলো পরিদর্শন করবে।

খোলা কাগজ: নগরীর নকশা অনুমোদনের বর্তমান প্রক্রিয়া কীভাবে আরও সহজ ও নাগরিকবান্ধব করা যায়?

আবুল কালাম আজাদ সুইট: এটিকে অনলাইনভিত্তিক করার চিন্তাভাবনা করেছি। ইতিমধ্যে দুটি কোম্পানিকে কাজ দেওয়া হয়েছে। তারা তাদের প্রয়োজনীয়তা ও পরিকল্পনা আমাদের জানাবে। আমরা তাদের সহযোগিতা করব। কীভাবে দ্রুত অনলাইন করা যায়, সে বিষয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।

খোলা কাগজ: অনুমোদন সাত তলার, কিন্তু ভবন করা হচ্ছে আট বা নয় তলা। এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে আরডিএর করণীয় কী?

আবুল কালাম আজাদ সুইট: আমরা চলতি মাসে এ ধরনের ১০টি ভবনকে টার্গেট করেছি। কেউ সাত তলার অনুমোদন নিয়ে নয় তলা করলে সেগুলো ভেঙে দেওয়া হবে। কিন্তু আমরা যখন নোটিশ দিই, সতর্ক করি বা নিজেরাই অতিরিক্ত অংশ ভেঙে ফেলার অনুরোধ করি, তখন অনেকে আদালতের দ্বারস্থ হন। বিষয়টি আদালতে চলে গেলে আদালতের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি না।

খোলা কাগজ: নগরীর অনেক বহুতল ভবনের অনুমোদন নেই। আবার অনুমোদন নেওয়ার পরও অনেকে অনেক শর্ত মানছেন না, বিশেষ করে ডেভেলপাররা। এ বিষয়ে কী করবেন?

আবুল কালাম আজাদ সুইট: এখন সবকিছুকে আইনের মধ্যে নিয়ে আসা হচ্ছে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

খোলা কাগজ: আরডিএ মার্কেট নিয়েও নানা অভিযোগ ও ঝুঁকির কথা শোনা যায়। এ বিষয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

আবুল কালাম আজাদ সুইট: আমি সম্প্রতি আরডিএ মার্কেট পরিদর্শন করেছি। সেখানে প্রকাশ্যেই বলেছি, সবাইকে নিয়মের মধ্যে আসতে হবে। এটি রাজশাহীর স্বার্থে, রাজশাহীর জনগণের স্বার্থে। আরডিএ মার্কেট রাজশাহীর মানুষের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কেট। সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে এবং অবৈধ ব্যবসায়ীদের আইনের মধ্যে আনার চেষ্টা করা হবে। যারা আইনের মধ্যে আসবেন না, তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।

খোলা কাগজ: আরডিএ মার্কেটটি ঝুঁকিপূর্ণ। আগুন লাগলে বড় ধরনের প্রাণহানি হতে পারে। এটিকে ভেঙে আধুনিক মার্কেট করার পরিকল্পনা আছে কি?

আবুল কালাম আজাদ সুইট: মার্কেটটি আশির দশকে নির্মাণ করা হয়েছিল। তখন পরিকল্পনার বাইরে এটি ইচ্ছেমতো করা হয়েছে। এখন এটিকে নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসা এক-দুই দিনের বিষয় নয়। এখানে ১ হাজার ৯০০-এর বেশি ব্যবসায়ী রয়েছেন। তারা তাদের জীবনের সর্বস্ব দিয়ে এখানে ব্যবসা করছেন। তবে আমি পরিদর্শন করে মনে করেছি, যত দ্রুত সম্ভব পুরো মার্কেটটি ভেঙে নতুন করে করা দরকার। কিন্তু নতুন করে করতে গেলে সময় লাগবে। অনেক ব্যবসায়ী নিঃস্ব হয়ে যেতে পারেন, তাদের পুঁজি ও ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই আমরা একটি বড় পরিকল্পনা করছি। পূর্বদিকে ন্যাশনাল ব্যাংক এবং পশ্চিমদিকে প্রাইম ব্যাংকের মাঝখানের জায়গা থেকে পদ্মার ধার পর্যন্ত, বড়কুঠি পর্যন্ত, পুরো জায়গাটি অধিগ্রহণ করে ঢাকার বসুন্ধরা বা যমুনা ফিউচার পার্কের আদলে একটি আধুনিক মার্কেট করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ ও আরডিএ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসেছি। তারা আমার পরিকল্পনার সঙ্গে একমত হয়েছেন এবং সমর্থন জানিয়েছেন।

খোলা কাগজ: নতুন আধুনিক মার্কেটের প্রকল্পটি আপনার দায়িত্বকালেই হাতে নেওয়া সম্ভব হবে কি?

আবুল কালাম আজাদ সুইট: আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আমি নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করছি এবং করব। আমার যতটুকু সম্ভব, এর মধ্যে এগিয়ে যাব।

খোলা কাগজ: রাজশাহীতে এখনো অনেক ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে। এগুলো চিহ্নিত করে ভেঙে ফেলার কোনো পরিকল্পনা আছে আপনার?

আবুল কালাম আজাদ সুইট: অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে ফেলা উচিত। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য এটি প্রয়োজন। তবে কিছু পুরোনো ভবন ঐতিহ্য হিসেবে সংরক্ষণের বিষয়ও আছে। তাই ঐতিহ্য ও জননিরাপত্তা-দুটো বিষয় মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

খোলা কাগজ: নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসনের জন্য কোনো পরিকল্পনা আছে?

আবুল কালাম আজাদ সুইট: আমার মাথায় একটি পরিকল্পনা আছে। ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। খাস খতিয়ানের কোনো জায়গা থাকলে সেখানে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কিছু করা যায় কি না, তা নিয়ে চিন্তা করছি। তিনি আমাকে অনুমতি দিয়েছেন। যত অল্প সময়ের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করা যায়, আমরা চেষ্টা করছি।

খোলা কাগজ: নগরীতে নতুন কোনো আবাসিক এলাকা নির্মাণের পরিকল্পনা আছে?

আবুল কালাম আজাদ সুইট: সিটি হাটের পাশে ‘আরডিএ আকাশলীনা’ নামে একটি আবাসন প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছি আমরা। সেখানে লেক, দুটি মসজিদ, একটি মন্দির, একটি স্কুল ও খেলার মাঠও থাকবে। এ ছাড়া নহাটা বাইপাস ব্রিজের উত্তর-পূর্ব কোণেও একই ধরনের আরেকটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। সেখানে পার্ক থাকবে।

খোলা কাগজ: ফ্ল্যাট নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা আছে?

আবুল কালাম আজাদ সুইট: ইতিমধ্যে তিনটি জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। বনলতায় তিনটি প্লট কোনো কারণে খালি ছিল। মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সেখানে বহুতল ভবন করার চেষ্টা করছি। তিনটি প্লটের বিপরীতে প্রায় ৩০০টি আবেদন রয়েছে। এবার যেহেতু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এমপিদের প্লট বরাদ্দ দিচ্ছেন না, তাই প্লট বরাদ্দ না দিয়ে ১০ বা ১১ তলা ভবন করে সেখানে ফ্ল্যাট দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছি। তিনটি প্লটে ৩০টি করে মোট ৩০ জনকে ফ্ল্যাট দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

খোলা কাগজ: নকশা অনুমোদন ও ভবন অনুমোদনের ক্ষেত্রে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। এগুলো নিয়ন্ত্রণে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন?

আবুল কালাম আজাদ সুইট: এখন শতভাগ নিয়ন্ত্রিত। বর্তমানে আরডিএতে নকশা অনুমোদনের জন্য কোনো পয়সা দিতে হয় না। আগামীতেও এটি থাকবে না, ইনশাআল্লাহ। 

রাজশাহী নগরীর ভবন নির্মাণ ও উন্নয়ন কার্যক্রমকে আইন ও পরিকল্পনার আওতায় আনার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন আরডিএর চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শুধু আরডিএর উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থার কার্যকর সমন্বয় এবং নাগরিকদের সহযোগিতাও প্রয়োজন। তার পরিকল্পনায় নতুন সড়ক, আবাসিক এলাকা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো, স্টেডিয়াম, আধুনিক বাজার, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসনের মতো বিষয় রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এসব পরিকল্পনা কত দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগোয়।

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  আরডিএ   চেয়ারম্যান   রাজশাহী  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close