বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে তার বাড়ির সামনে ফুল দিতে আসা অর্ণব দাস নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। এ ছাড়াও আরও দুজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধানমন্ডি থানা-পুলিশ।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সেখানে কড়া নিরাপত্তায় ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর মধ্যে তেমন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা ধরপাকড়ের ঘটনা দেখা যায়নি। তবে একজন রিকশাচালককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে বাড়িটির মূল ফটক থেকে প্রায় ২০০ গজ সামনে মিরপুর রোডস্থ ব্যারিকেডের বাইরে জুলাইযোদ্ধা ও রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব এ এন এম আয়াস ও তার লোকজন অবস্থান করছেন। বিকাল ৪টার পর থেকে উৎসুক জনতার ভিড় কমতে শুরু করে। বর্তমানে সেখানে আয়াস ও তার অল্প কয়েকজন সদস্য অবস্থান করছেন। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সেখানে এখনো রয়েছেন।
৩২ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ি থেকে শুরু করে মিরপুর রোড পর্যন্ত পুলিশ, র্যাব, ডিবি ও বিভিন্ন স্তরের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করেন। ভবনের সামনে থেকে ৩২ নম্বরের সড়কে ছিল অনেকগুলো সিসি ক্যামেরা।
ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম খোলা কাগজকে জানান, আটক যুবকের নাম অর্ণব দাস। তার বাড়ি টাঙ্গাইলে। তিনি নিজেকে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন যুবলীগের কর্মী বলে জানিয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে থানায় নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও আরও দুজনকে হেফাজতে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
মুহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল থেকে সেখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ভোর থেকেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে সড়কের দুই পাশে পুলিশের ব্যারিকেড দেওয়া হয়। সড়কে আগেই যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছিল। আজ পথচারীদেরও রাস্তাটি ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে না।’
প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এ বাড়িতে সপরিবারে শেখ মুজিবুর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। সেই থেকে ১৫ আগস্ট শোক দিবস পালন করে আসছে বিভিন্ন দল ও সংগঠন। এ ছাড়াও এই বাড়িতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর গড়ে তোলা হয়েছিল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন ভবনটির বড় একটি অংশে ভাঙচুর চালানো হয়। এরপর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শেখ হাসিনার অনলাইনে দেওয়া একটি ভাষণকে কেন্দ্র করে আবারও সেখানে ভাঙচুর চালানো হয়। এরপর শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তৃতীয়বারের মতো ভবনটিতে ভাঙচুর চালানো হয়।
কেকে/এআই