বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেশটির আদালতই নেবে। এ সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বা কূটনৈতিকভাবে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ভারতের এক শীর্ষ কর্মকর্তা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা বলেন, “শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে যেসব অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো ভারতীয় আইনেও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় কি না—প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় সেটিই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হবে।”
ওই কর্মকর্তা বলেন, “প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত আমাদের আদালতই নেবে, এটি কোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত হবে না।”
তার ভাষ্য, আদালতের প্রক্রিয়ায় প্রথমে প্রতিষ্ঠা করতে হবে, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো ভারতীয় আইন অনুযায়ীও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে বিষয়টি রাজনৈতিক পর্যায়ে সমাধানের পরিবর্তে বিদ্যমান আইন ও প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়েই এখন আলোচনা বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পরীক্ষা করছে। তবে প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে ভারতের আদালতের আইনি প্রক্রিয়াই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে জানিয়েছেন দেশটির ওই শীর্ষ কর্মকর্তা।
এদিকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধসহ বিভিন্ন অভিযোগে বিচারিক কার্যক্রম চলছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হচ্ছে।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত ভারতের আইনি প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করবে।
কেকে/সাশ