ঢাকার কেরানীগঞ্জে শাপলা তুলতে গিয়ে পানিতে ডুবে আয়েশা (৭) ও আহসান (৪) নামে দুই আপন ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে উপজেলার কলাতিয়া ইউনিয়নের হুগলাগাদী গ্রামে শাপলা তুলতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যায় আয়েশা ও আহসান। নিহত দুই শিশুর বাবার নাম আসাদুল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আয়েশা ও আহসান বাড়ির পাশের জলাশয়ে আরও দুই শিশুর সঙ্গে শাপলা তুলতে যায়। একপর্যায়ে বড় বোন আয়েশা পানিতে পড়ে গেলে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে পানিতে নামে ছোট ভাই আহসান। এ সময় দুজনই পানিতে তলিয়ে যায়।
সঙ্গে থাকা দুই শিশু বাড়িতে গিয়ে খবর দিলে পরিবারের লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়ার পর কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, শনিবার বিকালে কেরানীগঞ্জের ভেন্ডিঘাট এলাকায় ধলেশ্বরী নদীতে গোসল করতে নেমে সালমান (১৩) নামে আরেক শিশু নিখোঁজ হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তবে রোববার পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সালমান একই উপজেলার জিনজিরা রহমতপুর এলাকার মৃত সাঈদ হোসেনের ছেলে।
এদিকে, সালমানের নিখোঁজের ঘটনায় তার পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ও পরিবারের কয়েকজন সদস্যের দাবি, সালমানের মা শিমু আক্তার তার কথিত পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি সত্য মিথ্যা যাচাইয়ের দাবী তাদের।
তবে শিশুর মা শিমু আক্তার দাবি করেছেন, ছোট ছেলের জামা পালটানোর সময় বড় ছেলে পানিতে পড়ছে নাকি হারিয়ে গেছে তিনি জানেন না। তবে তার ধারণা, সালমান পানিতে পড়ে নিখোঁজ হয়েছে।
এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুস জানান, শনিবার মায়ের সঙ্গে ঘুরতে এসে এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি পুলিশের জানা নেই। আর হুগলাগাদী গ্রামে দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে এখনো থানায় কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
একই এলাকায় একদিনের ব্যবধানে তিন শিশুর মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও শোক বিরাজ করছে।
কেকে/ এমএস