জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে চোর সন্দেহে দুই যুবককে মারধরের ঘটনায় বাদশা মিয়া (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। মামলা হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার নেতৃত্বদানকারী পলাতক আসামি শান্তসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে জয়পুরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।
রোববার (১৬ আগস্ট) জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
নিহত বাদশা মিয়া (২৫) ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের নলপুকুর আদর্শ গ্রামের জামাল মিয়ার ছেলে। আহত মাজেদুল ইসলাম (১৮) একই এলাকার ইব্রাহিমের ছেলে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৪ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ক্ষেতলাল উপজেলার জামালগঞ্জ চারমাথা এলাকার মেসার্স জামালগঞ্জ ফিলিং স্টেশনে রাখা একটি বাসের ছাদে থাকা স্পেয়ার চাকা চুরির চেষ্টার সময় বাদশা মিয়া ও মাজেদুল ইসলামকে চোর সন্দেহে আটক করা হয়। এ সময় বাসের চালক রফিকসহ ফিলিং স্টেশনের লোকজন তাদের মারধর করে কিছুক্ষণ পর ছেড়ে দেয়।
পরে পরস্পরের যোগসাজশে শান্তর নেতৃত্বে পুনরায় সংগঠিত হয়ে ভুক্তভোগী দুই যুবককে আটক করা হয়। এরপর তাদের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে বাদশা মিয়া মারা গেলে এবং মাজেদুল ইসলামকে মৃত মনে করে দুজনকে ক্ষেতলাল উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের মহব্বতপুর মৌজার সাকিদাড়পাড়া গ্রামের পদ্মপুকুর হাওরের কাঁচা রাস্তার ওপর ফেলে রেখে যায়।
পরে স্থানীয়রা ওই স্থানে একজনের মরদেহ এবং অপরজনকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাদশা মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে এবং অচেতন মাজেদুল ইসলামকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
ঘটনাটি জেলা পুলিশের নজরে আসার পর জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে (সদর সার্কেল) তদন্তের নির্দেশ দেন। তার নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের একটি চৌকস দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই তদন্তে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হয়।
পুলিশ সুপারের নির্দেশে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রধান আসামিসহ চারজনকে প্রথমে আটক করা হয়। পরে ঘটনার নেতৃত্বদানকারী পলাতক আসামি শান্তকে নওগাঁ ও বগুড়া জেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে গ্রেপ্তার করে জেলা ডিবি পুলিশ।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কেকে/এমএস