কোলেস্টেরল বেড়ে যাচ্ছে, অথচ আপনি টেরই পাচ্ছেন না। প্রতিদিনের কিছু পরিচিত অভ্যাসই নীরবে বাড়িয়ে দিতে পারে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা। আপনি কী খাচ্ছেন, কীভাবে দিন কাটাচ্ছেন এবং কতটা শারীরিকভাবে সক্রিয়—এসবের ওপরই অনেকটা নির্ভর করে শরীরে কোলেস্টেরলের ভারসাম্য।
কোলেস্টেরল শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হলেও রক্তে এর মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে তা রক্তনালিতে জমে হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, উচ্চ কোলেস্টেরলের ক্ষেত্রে অনেক সময় স্পষ্ট কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। ফলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করলে বিষয়টি অজানাই থেকে যেতে পারে।
খাবারের অভ্যাসে লুকিয়ে ঝুঁকি
চর্বিযুক্ত মাংস, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, ঘি-মাখন, ডালডা, ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। একইভাবে অতিরিক্ত মিষ্টি, কোমল পানীয় ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটও শরীরের চর্বির ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
হাঁটাচলা কম, ঝুঁকি বেশি
সারাদিন অফিসে বা ঘরে বসে থাকা, প্রয়োজনের তুলনায় কম হাঁটা এবং ব্যায়াম না করার অভ্যাসও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের পথে বাধা হতে পারে। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম শরীরে ভালো কোলেস্টেরল বা এইচডিএল বজায় রাখতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।
ওজন বাড়ার সঙ্গেও সম্পর্ক
অতিরিক্ত ওজন, বিশেষ করে পেটের মেদ, শরীরে চর্বির বিপাকে পরিবর্তন আনতে পারে। ফলে কোলেস্টেরলসহ অন্যান্য রক্তের চর্বির মাত্রাও অস্বাভাবিক হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই শুধু খাবারের পরিমাণ নয়, শরীরের ওজনের দিকেও নজর রাখা জরুরি।
ধূমপান ও অনিয়মিত জীবনযাপন
ধূমপান রক্তনালির ক্ষতি করার পাশাপাশি ভালো কোলেস্টেরল কমাতে পারে। অন্যদিকে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ এবং অনিয়মিত জীবনযাপনও সামগ্রিক হৃদ্স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সচেতনতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
কোলেস্টেরল বাড়ছে কি না, তা শুধু শরীরের অনুভূতি দিয়ে বোঝা কঠিন। তাই বয়স, পারিবারিক ইতিহাস, ওজন ও অন্যান্য ঝুঁকি বিবেচনায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তের লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিদিনের খাবারে অতিরিক্ত তেল-চর্বি ও চিনি কমানো, শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার বাড়ানো, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম করা এবং ধূমপান এড়িয়ে চলার মতো অভ্যাস কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। অর্থাৎ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের শুরুটা হতে পারে আপনার প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাস থেকেই।
কেকে/সাশ