প্রায় ১২ বছর আগে হাঁস খাওয়ার জন্য গ্রামের এক প্রতিবেশীর কাছে হাঁস কিনতে গিয়েছিলেন ফজলুর রহমান। কিন্তু প্রতিবেশী হাঁসটি বিক্রি করতে রাজি হননি। সেই না-পাওয়ার রাগ ও ক্ষোভ থেকেই সিদ্ধান্ত নেন, নিজেই হাঁস পালন করবেন। একদিনের সেই জেদই বদলে দিয়েছে তার জীবন।
বর্তমানে মাত্র ২৪ শতাংশ জমিতে প্রায় ৩ হাজার হাঁস পালন করছেন বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের দারুগ্রাম এলাকার মফিজ উদ্দিনের ছেলে ফজলুর রহমান। তার খামারে প্রতিদিন উৎপাদন হচ্ছে প্রায় দেড় হাজার ডিম। ডিম বিক্রিসহ হাঁসের বিভিন্ন প্রকল্প থেকে তিনি ভালো আয় করছেন।
সরেজমিনে রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে দারুগ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে ফজলুর রহমানের হাঁসের খামার। ২৪ শতাংশ জমির একাংশে রয়েছে পুকুর, অন্য অংশে তৈরি করা হয়েছে হাঁস পালনের ঘর। সীমিত জায়গার মধ্যেই চলছে প্রায় ৩ হাজার হাঁসের পরিচর্যা।
ফজলুর রহমান জানান, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি নিজেই হাঁসগুলোকে ধান, শামুক ও ফিড খাওয়ান। ধান কাটা ও মাড়াই শেষ হয়ে জমি ফাঁকা থাকলে হাঁসগুলো সেখানে ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে বাড়তি খাবারের খরচ কিছুটা কমে যায়। তবে হাঁসগুলো মাঠে ছেড়ে দিলে দেখভালের জন্য একজন সহযোগী রাখতে হয়।
তিনি বলেন, তার খামার থেকে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার ডিম উৎপাদন হয়। প্রতিদিনের ডিম বিক্রি করে প্রায় ১৯ হাজার ৫০০ টাকা পাওয়া যায়। এ হিসাবে মাসে ডিম বিক্রি থেকেই প্রায় ৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা আয় হয়। এ ছাড়া প্রতি ছয় মাসে একটি প্রকল্প শেষ হলে খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা আয় হয়।
একসময় ফজলুর রহমানের সংসারে অভাব-অনটন ছিল। হাঁস পালন শুরু করার পর সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে হাঁস পালন করে এখন তিনি স্বাবলম্বী।
ফজলুর রহমান জানান, হাঁস পালনের জন্য দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাই তাঁর সবচেয়ে বড় ভরসা। এখন পর্যন্ত প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সহায়তা ছাড়াই নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে হাঁসের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করে আসছেন তিনি।
তার এই দক্ষতার কথা আশপাশের এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখন হাঁসের চিকিৎসা ও পরামর্শ নিতে তার কাছে আসেন। তার সফলতা দেখে এলাকার বেকার যুবকদের মধ্যেও হাঁস পালনে আগ্রহ বাড়ছে।
শেরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নিয়াজ কাযমীর রহমান বলেন, “এই উপজেলায় প্রায় ৫০ জন হাঁসের খামারি রয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে এ সংখ্যা কম-বেশি হয়। খামারিদের নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে রোগবালাইয়ের কারণে কোনো খামারি ক্ষতিগ্রস্ত না হন।”
কেকে/সাশ