বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে বাড়ছে এলএনজি আমদানির ব্যয় ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ, অন্যদিকে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার বড় অংশই অব্যবহৃত থাকছে। এ অবস্থায় নতুন করে ব্যয়বহুল এফএসআরইউ স্থাপন বা বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিবর্তে বিদ্যমান সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখা এবং শিল্পকারখানায় রুফটপ সোলারের ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
একইসঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ সংরক্ষণে ব্যাটারি ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, সোলার প্যানেল ও ব্যাটারির ওপর কর-শুল্ক কমানো এবং সংকট মোকাবিলায় প্রকৌশলীদের কারিগরি পরামর্শকে নীতিনির্ধারণে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এলএনজিনির্ভর ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে সরকারের আর্থিক চাপ আরও না বাড়িয়ে কম খরচের জ্বালানি উৎসকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এজন্য শিল্পখাত সচল রাখা ও অর্থনীতির উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত জ্বালানি পরিকল্পনা জরুরি।
দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থাপিত সক্ষমতা ৩৩ মেগাওয়াট হলেও সর্বোচ্চ ব্যবহার হচ্ছে ১৭ হাজার মেগাওয়াট। এর মধ্যে গ্যাস ও এলএনজি সংকটের কারণে নতুন করে ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হলে তা সরকারের আর্থিক চাপ আরও বাড়াবে।
তাদের মতে, স্বল্পমেয়াদে সরকারের সবচেয়ে জরুরি কাজ হওয়া উচিত শিল্পকারখানায় রুফটপ সোলারের ব্যবহার বাড়ানো। বিশেষ করে গার্মেন্টসসহ বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ছাদে ব্যাপকভাবে সৌর প্যানেল স্থাপন করে সেই বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে সংরক্ষণ করা গেলে রাতে শিল্পকারখানাগুলো নিজেদের উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবে। এতে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে এবং সরকারের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যয়ও কমানো সম্ভব হবে।
নতুন করে এফএসআরইউ স্থাপনের আগে এর দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক প্রভাব বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। এফএসআরইউয়ের মাধ্যমে এলএনজি আমদানি করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বেশি হওয়ায় এটি দেশের অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে। তাই সংকটের তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে এ ধরনের ব্যয়বহুল অবকাঠামো বাড়ানোর পরিবর্তে কম খরচের বিকল্পগুলো কাজে লাগানো দরকার।
প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলোচনা জরুরি
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রকৌশলীদের সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। এত বড় সংকটের সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পেশাজীবী ও প্রকৌশলীদের সংগঠনগুলোর সঙ্গে সরকারের নিয়মিত আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও কারিগরি পরামর্শ কাজে লাগিয়ে সংকট মোকাবিলার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা যেতে পারে।
তাদের মতে, প্রকৌশলীদের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা হচ্ছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে পেশাজীবীদের সঙ্গে কাঠামোবদ্ধভাবে আলোচনা করে সংকট মোকাবিলার উপায় নির্ধারণের উদ্যোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রকৌশলীরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সরকারের জন্য একটি প্রস্তাবনা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
সোলার ও ব্যাটারিতে কর কমানোর পরামর্শ
বিশেষজ্ঞদের মতে, রুফটপ সোলারের প্রসারে সৌর প্যানেল ও ব্যাটারির ওপর কর কমানো উচিত। সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের অন্যতম বাধা হলো প্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারির উচ্চমূল্য। এসব যন্ত্রপাতির ওপর কর ও শুল্ক বেশি থাকায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে রুফটপ সোলার স্থাপনের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। ফলে সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এর ব্যবহার প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশে সোলার প্যানেলে শূন্য কর ছিল। বর্তমানে সৌর প্যানেলের ওপর উল্লেখযোগ্য হারে কর রয়েছে। ব্যাটারি, বিশেষ করে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির ওপরও কর কমানো প্রয়োজন। এতে সৌরবিদ্যুৎ সংরক্ষণ ব্যবস্থা দ্রুত সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।
কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র ব্যবহারে জোর
বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় কম রাখতে বিদ্যমান কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো যতটা সম্ভব চালানোর পরামর্শ এ খাতের বিশেষজ্ঞদের। তাদের মতে, তুলনামূলক কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ থাকায় কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোকে সর্বোচ্চ ব্যবহার করা গেলে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বিপরীতে এলএনজি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি হলে বিদ্যুতের দাম ও সরকারের ভর্তুকির চাপ দুটিই বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত অর্থনীতির চাকা সচল রাখা। অতিরিক্ত ঋণ ও ব্যয়ের মাধ্যমে অর্থনীতিকে সচল রাখার চেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না। তাই কম খরচের বিদ্যুৎ উৎপাদন, রুফটপ সোলার, বিদ্যুৎ সংরক্ষণ এবং শিল্পখাতে জ্বালানি সরবরাহকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব এ এন এইচ আখতার হোসেন বলেন, “দেশের বিদ্যুৎ খাতে বর্তমানে উৎপাদন সক্ষমতা ও চাহিদার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। প্রায় ৩৩ হাজার মেগাওয়াট স্থাপিত সক্ষমতার বিপরীতে সর্বোচ্চ ব্যবহার হচ্ছে ১৭ হাজার মেগাওয়াটের মতো। ফলে বিপুল পরিমাণ সক্ষমতা অব্যবহৃত থাকলেও সরকারকে প্রতিবছর বড় অঙ্কের ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে নতুন করে বড় আকারে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর আগে বিদ্যমান সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।”
তিনি বলেন, “এলএনজি আমদানির ব্যয়ও বর্তমানে অত্যন্ত বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বাড়লে তা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচও অনেক বেড়ে যায়। তাই বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির একটি ভারসাম্যপূর্ণ মিশ্রণ নির্ধারণ করতে হবে। তুলনামূলক কম খরচের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে যতটা সম্ভব কাজে লাগানো যেতে পারে। পাশাপাশি শিল্পকারখানা সচল রাখতে সীমিত ও পরিকল্পিতভাবে এলএনজি ব্যবহার করা প্রয়োজন।”
রুফটপ সোলারের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে সাবেক এই সচিব বলেন, “দেশের গার্মেন্টসসহ বড় শিল্পকারখানার ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। তার মতে, রুফটপ সোলারের সঙ্গে ব্যাটারি স্টোরেজ যুক্ত করা গেলে দিনের পাশাপাশি রাতেও সেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যাবে। এতে তুলনামূলক কম খরচে শিল্পকারখানার বিদ্যুতের চাহিদার একটি অংশ পূরণ করা সম্ভব হবে।”
এ এন এইচ আখতার হোসেন বলেন, “বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কোনো একটি সমাধানের ওপর নির্ভর না করে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নতুন করে এফএসআরইউ স্থাপন বা অতিরিক্ত এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায়, সক্ষমতা ও ব্যবহারযোগ্যতা ভালোভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, “আগের মতো প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করে পরে ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা বাড়ানো হলে একই সমস্যায় আবার পড়তে হবে। তাই নতুন প্রকল্প নেওয়ার আগে আর্থিক ও কারিগরি বিশ্লেষণ করে সবচেয়ে সাশ্রয়ী বিকল্প নির্ধারণ করা জরুরি।”
সাবেক সচিবের মতে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শিল্পকারখানা সচল রাখা এবং পুরো অর্থনীতির উৎপাদনশীলতা বজায় রাখা। এজন্য রুফটপ সোলারের ব্যবহার বাড়ানো, বিদ্যমান তুলনামূলক সাশ্রয়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বেশি চালানো এবং এলএনজির ব্যবহার প্রয়োজনীয় ও অগ্রাধিকার খাতে সীমিত রাখার মাধ্যমে একটি সমন্বিত জ্বালানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বলেন, “দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানিকে সাময়িক সমাধান হিসেবে না দেখে জ্বালানি ব্যয় কমানো, দেশীয় গ্যাসের উত্তোলন বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিদ্যমান জ্বালানি সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। তার মতে, জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারের আর্থিক ঘাটতি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বকেয়া কমিয়ে সক্ষমতা বাড়াতে হবে।”
তিনি বলেন, “দেশের নিজস্ব গ্যাসের মজুত রয়েছে। ভোলাসহ বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র থেকে দ্রুত গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া গেলে আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর চাপ কমানো সম্ভব। এলএনজি আমদানির জন্য নতুন অবকাঠামো তৈরিতে বড় ধরনের বিনিয়োগের পরিবর্তে দেশীয় গ্যাস উত্তোলন ও ব্যবহারের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ভোলার গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো গেলে জ্বালানি আমদানির ব্যয়ও কমানো সম্ভব হবে।”
শামসুল আলম বলেন, “দেশীয় গ্যাস উত্তোলনে ব্যয় তুলনামূলকভাবে অনেক কম। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট গ্যাস উত্তোলনে ব্যয় ৩ থেকে সাড়ে ৩ টাকার মধ্যে থাকতে পারে। বিপরীতে আমদানি করা এলএনজির জন্য অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। ফলে কম খরচে দেশীয় গ্যাস উত্তোলনের সুযোগ থাকার পরও বিপুল অর্থ ব্যয় করে এলএনজি আমদানি করা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি তৈরি করছে।”
তিনি বলেন, “দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর অনেকগুলোই পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চলতে পারছে না। গ্যাসের সংকটের পাশাপাশি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগও পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। একই সঙ্গে এলএনজি আমদানির সক্ষমতাও সীমিত। অতীতে বাংলাদেশ দৈনিক প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানির সক্ষমতা দেখিয়েছে। কিন্তু কোনো কোনো সময়ে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট আমদানি করা হয়েছে। আবার আমদানি করা গ্যাসের পুরোটা ব্যবহার করা সম্ভব না হওয়ায় অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের ঘটনাও ঘটেছে।”
এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে জ্বালানি খাতে নতুন করে ব্যয় বাড়ানোর পরিবর্তে কীভাবে ব্যয় কমিয়ে সাশ্রয়ীভাবে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে সরকারকে পরিকল্পনা নিতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
জ্বালানি খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে শামসুল আলম বলেন, “মানুষকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি থেকে বঞ্চিত করার বিষয়টি শুধু অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকারের সঙ্গেও সম্পর্কিত। যারা জ্বালানি খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি বলেন, “সরকারের বিদ্যুৎ পরিকল্পনাগুলোও নতুন করে পর্যালোচনা করা দরকার। যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরকারকে তুলনামূলক বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে, সেগুলোর অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা যাচাই করা প্রয়োজন। কোনো প্রকল্পে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বেশি হলে সেটি চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্পের কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে। এ ধরনের ব্যয়বহুল পরিকল্পনা বাদ দিয়ে কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎসগুলোকে অগ্রাধিকার দিলে সরকারের আর্থিক চাপ কমবে।”
শামসুল আলম আরও বলেন, শুধু গ্যাসের সরবরাহ বাড়ালেই হবে না, কোথায় কীভাবে গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে সেটিও পর্যালোচনা করতে হবে। গ্যাসের ব্যবহারকে সাশ্রয়ী ও অগ্রাধিকারভিত্তিক জায়গায় নিয়ে আসতে পারলে একই পরিমাণ গ্যাস দিয়ে বেশি উপকার পাওয়া সম্ভব। এর পাশাপাশি দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো, প্রয়োজন অনুযায়ী এলএনজি ব্যবহার এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগানোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।
কেকে/সাশ