ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোরতম নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা আসার অপেক্ষায় সোমবার (২৩ আগস্ট) বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপের হুমকি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ দশমিক ৯৩ ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমেছে ১ দশমিক ২৪ শতাংশ, প্রতি ব্যারেল দাঁড়িয়েছে ৯৩ দশমিক ২২ ডলারে।
সোমবারই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন এক দফা নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের। তিনি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ উদ্যোগকে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে বড় আর্থিক আক্রমণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এর আগে গত সপ্তাহে সিএনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেছিলেন, “ইরানের অর্থনীতি ভেঙে দিতে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও অন্যান্য দেশগুলোর ওপরও চাপ দেওয়া হবে।”
গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক অভিযান’ চালানোর হুঁশিয়ারি দেন। নিষেধাজ্ঞা এড়াতে তেহরানকে সহায়তা করা দেশগুলোর ওপর বড় ধরনের আর্থিক শাস্তি আরোপের কথাও জানান তিনি।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, শত্রুপক্ষের অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলার সক্ষমতা তেহরানের রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার পথও খোলা রয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
এদিকে কমনওয়েলথ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়া (সিবিএ) জানিয়েছে, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে। ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন উদ্যোগ কতটা সফল হবে এবং এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান কী পদক্ষেপ নেয়—এসব বিষয় বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্যাংকটির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে সহিংসতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সিবিএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭০ থেকে ১০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন যুদ্ধপূর্ব মাত্রার মাত্র ৫০ থেকে ৬০ শতাংশে ফিরলেও বিশ্ববাজারে সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়ে তেলের দাম ওই সীমার নিচের দিকে নেমে যেতে পারে।
সূত্র: সিএনবিসি
কেকে/সাশ