‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬।
গত ১১ আগস্ট নগরের লালদীঘি মাঠে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়।
চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের আয়োজনে এবং জেলা প্রশাসন চট্টগ্রামের সহযোগিতায় আয়োজিত এ বৃক্ষমেলায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা, বনজ সম্পদ ও পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক নানা আয়োজন স্থান পেয়েছে। এবারের মেলায় মোট ৫৮টি নার্সারি ও স্টল অংশগ্রহণ করছে।
তবে এবারের মেলায় ব্যতিক্রমী সংযোজন হিসেবে দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে কুন্ডলী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে, বাংলাদেশ বায়োডাইভারসিটি কনজার্ভেশন ফেডারেশনের সহায়তায় ও চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় স্থাপিত ‘অল অ্যাবাউট স্নেকস’ স্টল।
স্টলটিতে সাপের পরিচিতি, সাপের পরিবেশগত গুরুত্ব, সাপ নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা ও সর্পদংশনের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক করণীয় সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য ও সচেতনতামূলক উপকরণ প্রদর্শন করা হচ্ছে। প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী, বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণরা স্টলটিতে ভিড় করছেন এবং সাপ ও সর্পদংশন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন।
এ বিষয়ে কুন্ডলী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সর্পবিদ রেজোয়ানা আরেফীন বলেন, “শত বছর ধরে সাপ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে নানা ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত রয়েছে। যেমন—কার্বলিক অ্যাসিড দিয়ে সাপ তাড়ানো যায়, সর্পদংশনের পর শক্ত করে বাঁধন দিতে হয়, দাড়াশ সাপের কাঁটা রয়েছে—এ ধরনের বহু ভুল ধারণা এখনো সমাজে প্রচলিত। এসব ভ্রান্ত ধারণার কারণে মানুষ ভয় পেয়ে নির্বিচারে সাপ নিধন করে চলেছে। আমরা চাই, ভয় ও কুসংস্কারের পরিবর্তে মানুষ বৈজ্ঞানিক তথ্যের মাধ্যমে সাপকে চিনুক এবং সর্পদংশনের ক্ষেত্রে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।”
স্টলটি পরিদর্শনকারী সরাইপাড়া সিটি করপোরেশন স্কুলের শিক্ষার্থী সিফাত বলেন, “আমরা সবসময় জেনে এসেছি, সাপে কাটলে শক্ত করে বাঁধন দিতে হবে। কিন্তু এখানে এসে সর্পদংশনের ক্ষেত্রে সঠিক করণীয় সম্পর্কে অনেক কিছু শিখেছি। বিশেষ করে রোগীকে তিনটি জিনিস বাধ্যতামূলকভাবে মানতে হবে। যেমন- পানি পান কিংবা খাবার খাওয়া যাবে না, জোরে হাঁটাহাঁটি বা দৌড়াদৌড়ি করা যাবে না এবং ঘুমানো যাবে না। এর সাথে দ্রুত চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়ার গুরুত্ব জানতে পেরেছি। বাঁধন দেওয়ার ক্ষেত্রেও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি সম্পর্কে হাতে-কলমে ধারণা পেয়েছি।”
আয়োজকদের মতে, সাপ বাংলাদেশের প্রতিবেশ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও ভয়, কুসংস্কার ও ভুল তথ্যের কারণে প্রতিবছর অসংখ্য সাপ অপ্রয়োজনীয়ভাবে মারা যায়। একইসঙ্গে সর্পদংশন একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। তাই সাপ সংরক্ষণ ও মানুষের নিরাপত্তা—দুই বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্যভিত্তিক জনসচেতনতা তৈরি করা জরুরি।
আয়োজকরা জানান, ‘অল অ্যাবাউট স্নেকস’ স্টলটি বৃক্ষমেলা চলাকালীন দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং মেলা মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) পর্যন্ত চলবে।
সাপ, সর্পদংশন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিষয়ে সঠিক তথ্য জানতে আগ্রহী সবাইকে স্টলটি পরিদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
কেকে/এমএ