ভোলার লালমোহন উপজেলার মেঘনা নদীতে অবৈধ খুর্চি জাল বসানোর কারণে কাঙ্ক্ষিত মাছ পাচ্ছেন না জেলেরা। উপজেলার ধলীগৌরনগর ও লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়ন সংলগ্ন মেঘনা নদীর একটি বিশাল অংশজুড়ে বসানো হয়েছে এসব খুর্চি জাল। অবৈধ এসব জালে আটকা পড়ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের রেণুপোনা ও জলজ প্রাণী।
মাছের অবাধ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী এসব অবৈধ খুর্চি জাল স্থানীয় কথিত প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, এসব খুর্চি জাল বসানোর কারণে অন্যান্য জালে তেমন মাছ ধরা পড়ছে না। নদীর অধিকাংশ মাছই আটকা পড়ছে এসব খুর্চি জালে। ফলে ভরা মৌসুমেও নদীতে মাছের আকাল চলছে।
একটি সাধারণ জেলে নৌকায় যেখানে দৈনিক আট থেকে ১০ হাজার টাকার মাছ পাওয়া যেত, সেখানে এখন এক হাজার টাকার মাছও মিলছে না।
উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের গাইট্টা মাছঘাটের জেলে ফারুক মাঝি, শফি মাঝি ও রবু মাঝিসহ স্থানীয় আরও কয়েকজন জেলে জানান, মেঘনা নদীর প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অবৈধ খুর্চি জাল বসানো হলেও তা দেখছে না প্রশাসন।
তারা জানান, এসব জাল বসানোর জন্য নদীর মধ্যে জেগে ওঠা সরকারি বনাঞ্চল থেকে শত শত গাছ কেটে খুঁটি বানানো হয়েছে। এসব খুঁটি নদীর মধ্যে পুঁতে জাল বসানোর কারণে মাছের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব খুর্চি জালে আটকা পড়ছে সব ধরনের ছোট-বড় মাছ। ফলে সাধারণ জেলেরা কাঙ্ক্ষিত মাছ পাচ্ছেন না।
জেলেরা জানান, দুই বছর আগে একবার এসব অবৈধ খুর্চি জাল উচ্ছেদ করা হলেও এবার তা উচ্ছেদ করা হচ্ছে না। তাই মেঘনা নদীর ধলীগৌরনগর ও লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের অন্তর্গত দুটি পয়েন্টে বসানো খুর্চি জাল উচ্ছেদের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নদীর তীরবর্তী কয়েকজন জেলে বলেন, অবৈধ খুর্চি জালে ধরা মাছ ও মাছ বিক্রির টাকার একটি অংশ স্থানীয় কথিত কিছু প্রভাবশালীদের কাছে পৌঁছে যায়। এ কারণে এসব খুর্চি জালের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস করছেন না অনেকে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট দপ্তরের লোকজনও বিষয়টি দেখেও যেন না দেখার ভান করছেন বলে অভিযোগ তাদের।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমদ আখন্দ জানান, পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় খুর্চি জালের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব অবৈধ খুর্চি জাল উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কেকে/ এমএস