যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে একটি রেস্তোরাঁয় বন্দুক হামলায় ইউসুফ রাজু (৪৪) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় রাসেল (৩৯) নামে আরেক বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত ও আহত দুজনেরই বাড়ি নোয়াখালী জেলায়।
রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে বাংলাদেশি অধ্যুষিত ব্রুকলিনের ৮৪২ রকঅ্যাওয়ে অ্যাভিনিউয়ের ‘আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিজ্জা’ রেস্তোরাঁয় এ ঘটনা ঘটে।
নিউইয়র্ক পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, রেস্তোরাঁটির কর্মী রাজুর মাথায় গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় ওয়ান ব্রুকলিন হেলথ-ব্রুকডেল ইউনিভার্সিটি হসপিটাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরদিকে রাসেলের পায়ে গুলি লাগে। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হামলার কারণ এবং এতে কারা জড়িত, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পর নিউইয়র্ক পুলিশ (এনওয়াইপিডি) তদন্ত শুরু করেছে। স্থানীয় সময় রোববার রাত ৯টা পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।
তবে ব্রুকলিনে বসবাসরত নোয়াখালী কমিউনিটির নেতা শহিদুল্লাহ কাইসারের দাবি, রেস্তোরাঁয় এক গ্রাহক খাবারের বিল পরিশোধ না করেই চলে যাচ্ছিলেন। রাজু ও রাসেল তাকে বিল পরিশোধ করতে বললে তাদের সঙ্গে ওই ব্যক্তির বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি পিস্তল বের করে কয়েক রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যান।
নিহত ইউসুফ রাজুর বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের কলশোনগর গ্রামে। প্রায় তিন বছর আগে মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। যুক্তরাষ্ট্রে যেতে তিনি দালালকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনও করেছিলেন তিনি।
রাজু ছিলেন বিবাহিত। দেশে তার স্ত্রী পলি আক্তার, দুই সন্তান, ভাই-বোন ও মা-বাবা রয়েছেন। স্বামীকে হারিয়ে দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে এখন দিশেহারা পলি আক্তার। তিনি স্বামীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
রাজুর বাবা মোহাম্মদ উল্লা ও মা লাকি আক্তারও ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন।
নোয়াখালী সোসাইটির নেতা নাজমুল হক মানিক জানান, রাজুর স্বজনরা বাংলাদেশ থেকে ফোন করে তার মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, আহত রাসেলের বাড়িও নোয়াখালীতে। তিনিও দালালের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে রাজুর মৃত্যুর খবর নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর কলশোনগর গ্রামে পৌঁছালে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে রাজুর বাড়ির পরিবেশ। প্রবাসে স্বপ্নের ভবিষ্যৎ গড়তে যাওয়া রাজুর আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের মাতম।
কেকে/ এমএস