দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌরসভায় সরকারি কর্মকর্তা প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অবহেলিত জনপদগুলোতে দৃশ্যমান পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আব্দুল আল মামুন কাওসার শেখ বিগত ৫ আগস্টের পর পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর থেকেই মূলত স্থবির হয়ে পড়া পৌর কার্যক্রম নতুন গতি পায়।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পৌর এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নে গ্রহণ করা হয়েছে নানামুখী উদ্যোগ। গৃহীত প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে দীর্ঘদিনের অবহেলিত রাস্তাঘাট, হাট-বাজার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এখন দৃশ্যমান উন্নয়ন ফুটে উঠেছে। পৌর বাজেট ঘোষণার পর ইতোমধ্যে বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও বেশ কিছু প্রকল্প বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পৌর এলাকার বাঘেরহাট, পুরাতন বাজার ও ওসমানপুর বাজারের অলিগলির রাস্তা সংস্কার এবং নতুন দোকানঘরসহ আধুনিক পৌর মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও ১০-১২টি ব্রীজ-কালভার্ট, ছোট-বড় সড়ক, স্কুল-কলেজ সংস্কার এবং আলোকসজ্জার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জলজট নিরসনে গ্রাম-গঞ্জের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হয়েছে।
চলতি বাজেটে স্থানীয় অবকাঠামো খাতের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাজেটে পৌরসভার অসহায়, দরিদ্র মানুষ এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ৫৫ হাজার টাকা অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
মো. আব্দুল আল মামুন কাওসার শেখ বলেন, ‘প্রয়োজনীয় সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেলে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও বড় ধরনের দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে। ঘোড়াঘাট পৌরসভা বর্তমানে তৃতীয় শ্রেণির হলেও এটিকে মডেল পৌরসভায় রূপান্তর করে উন্নয়নের ফোয়ারা সৃষ্টি করা হবে।’
পৌরসভাকে আলাদা পরিচয় দিতে প্রবেশদ্বারগুলোতে ঘোড়ার প্রতীক সংবলিত বিশেষ স্মারক স্থাপন করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রশাসকের এসব সময়োপযোগী উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নবঞ্চিত ঘোড়াঘাট পৌরবাসীর জীবনযাত্রায় ইতিবাচক গতি ফিরবে বলে আশা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
কেকে/এআই