কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসারের শিকারপুর থেকে বাড়াইর গ্রামমুখী সড়কের দুইপাশে রোপণ করা সুপারি গাছের বেশ কিছু চারা রাসায়নিক কীটনাশক দিয়ে ধ্বংস করার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে রোপণ করা এসব চারার মধ্যে বেশ কিছু গাছে কীটনাশক প্রয়োগের পর পাতা ঝলসে গিয়ে মারা গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজসেবক মো. গোলাম সারোয়ার বুড়িচং থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজসেবক মো. গোলাম সারোয়ার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিকারপুর থেকে বাড়াইর গ্রামমুখী সরু সড়কটি প্রায় ৬-৭ মাস আগে নিজস্ব অর্থায়নে সংস্কার করেন সমাজসেবক মো. গোলাম সারোয়ার। কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে তিনি সড়কটি সংস্কার করে প্রায় ১৪ ফুট প্রশস্ত করেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকারিভাবে পাওয়া বেশ কিছু সুপারি গাছের চারা সড়কটির দুইপাশে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রোপণ করা হয়। চারাগুলোর পরিচর্যা ও দেখভালের জন্য লোকও নিয়োজিত রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, শিকারপুর পূর্ববাড়ির বাসিন্দা জহিরুল ইসলামের ছেলে মো. রিয়াদসহ আরও ২-৩ জন ব্যক্তি সড়কের পাশে রোপণ করা বেশ কিছু সুপারি গাছের চারায় রাসায়নিক কীটনাশক ঢেলে দেন। পরে কীটনাশকের প্রভাবে চারাগুলোর পাতা ঝলসে যেতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে গাছগুলো মারা যায়।
ঘটনাটি জানতে পেরে মো. গোলাম সারোয়ার কুমিল্লা শহর থেকে নিজ গ্রামে এসে অভিযুক্ত রিয়াদের কাছে বিষয়টি জানতে চান। এ সময় রিয়াদ উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং থানায় অভিযোগ করলে পরিণতি ভালো হবে না বলেও হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন গোলাম সারোয়ার।
মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘গ্রামের মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তাটি সংস্কার করেছি। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাস্তার দুই পাশে সুপারি গাছের চারা রোপণ করেছিলাম। গাছগুলো বড় হলে এলাকার সৌন্দর্য যেমন বাড়বে, তেমনি পরিবেশেরও উপকার হবে। কিন্তু দুর্বৃত্তরা কীটনাশক দিয়ে বেশ কিছু চারা নষ্ট করে দিয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে থানায় অভিযোগ করেছি।’
বুড়িচং থানার দেবপুর ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন বলেন, ‘শুক্রবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের তদন্ত করার কথা ছিল। তবে আদালতে অন্য একটি মামলার কাজে ব্যস্ত থাকায় তা সম্ভব হয়নি।’
কেকে/এআই