পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা যুবদলের নতুন কমিটি বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। কমিটিতে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ তুলে তারা কমিটি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার নতুন বাজারের জমজম রেস্টুরেন্টে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দুমকি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিন হাওলাদার।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২৬ আগস্ট বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দুমকি উপজেলা শাখা যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিতে দলের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে রাজপথে নিষ্ক্রিয়, অরাজনৈতিক ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রাখা ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে নতুন কমিটির সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা।
তাদের অভিযোগ, সভাপতি মো. জাকির হোসেন মিলন দীর্ঘ ১৬ বছর মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। তারা দাবি করেন, তিনি দুমকি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাদের মোটরসাইকেল চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মিজানুর রহমান লাল মিয়াকে জাতীয় পার্টির একজন সক্রিয় কর্মী দাবি করে নেতারা বলেন, তিনি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সাবেক এক সংসদ সদস্যকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন।
এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদুল ইসলাম রুবেল প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর থেকে দেশের বাইরে অবস্থান করেছেন এবং দেশে ফিরে ব্যবসা শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন তারা। অর্থের বিনিময়ে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
পদবঞ্চিত নেতারা বলেন, গত ২৬ আগস্ট কমিটি ঘোষণার পর থেকেই এর বিরুদ্ধে দুমকি উপজেলা যুবদলের নেতাকর্মীরা আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছেন। তাদের এই আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে ঘোষিত কমিটি বাতিল করে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়। দাবি মেনে নেওয়া না হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
কেকে/সাশ