কৃষকদের উৎপাদিত পেঁয়াজ পচনের হাত থেকে রক্ষা করা এবং দীর্ঘসময় সংরক্ষণের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় এয়ারফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রথম দফায় ২০ জন কৃষকের হাতে বিনামূল্যে এ এয়ারফ্লো মেশিন তুলে দিয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’—এ স্লোগানকে সামনে রেখে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে এসব মেশিন সরবরাহ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. মৈমুর আলী মৃধা, জেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক মো. মতিউর রহমান, প্রেস ক্লাব মহম্মদপুরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাক প্রতিনিধি মেহেদী হাসান পলাশ, সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ রানা এবং উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুস্মিতা বিশ্বাস, আফরোজা আক্তার ও প্রণব কুমার সাহা প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইশরাত জাহান শিলু সরকারের এ বিশেষ উদ্যোগের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক দিক তুলে ধরেন।
তিনি জানান, দেশে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ ৮৬ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ৪২ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়, যার বিপরীতে জাতীয় চাহিদা ৩৫ থেকে ৩৬ লাখ টন। তবে উপযুক্ত সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে উৎপাদিত পেঁয়াজের বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়। এতে ঘাটতি মেটাতে বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়, যার ফলে বাজারে দরপতন ঘটে এবং স্থানীয় কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। পচন রোধে এয়ারফ্লো প্রযুক্তি এই সংকট কাটিয়ে উঠতে বড় ভূমিকা রাখবে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, মহম্মদপুর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের জন্য মোট ১৫০টি এয়ারফ্লো মেশিন বরাদ্দ পাওয়া গেছে। উদ্বোধনী দিনে ২০ জন কৃষককে এ সুবিধা দেওয়া হলেও পর্যায়ক্রমে অবশিষ্ট ১৩০টি মেশিন বিতরণ করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি মেশিনের জন্য মোট সরকারি বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২৮,১০০ টাকা। এর মধ্যে এয়ারফ্লো মেশিন বাবদ ২১,০০০ টাকা এবং মেশিন স্থাপনের উপযোগী ঘরের মেঝে ও দেয়াল নির্মাণের অবকাঠামোগত সহায়তার জন্য কৃষককে নগদ ৭,০০০ টাকা প্রদান করা হচ্ছে।
বিনামূল্যে উন্নত প্রযুক্তির এ মেশিন হাতে পেয়ে এলাকার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আনন্দ ও স্বস্তি লক্ষ করা গেছে।
কেকে/এআই