পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় দেড় বছরের শিশু সন্তানকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে। শিশুকে বিক্রি করে সে টাকায় আইফোন কেনা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন শিশুর স্বজনরা। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের মাছুয়াখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, মাছুয়াখালী গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে মারুফের সঙ্গে তার স্ত্রীর দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এ কারণে তাদের দেড় বছরের ছেলে মুসা তার দাদি মাহফুজা লালন-পালন করেন। সম্প্রতি মারুফ ঢাকা থেকে বাড়িতে এসে তার ছেলে মুসাকে সঙ্গে নিয়ে যান। এরপর শিশুটিকে নিয়ে তিনি আর বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে স্বজনরা জানতে পারেন, উপজেলার গয়নাঘাট গ্রামের ইমরান নামে এক ব্যক্তির কাছে এক লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে বিক্রি করেন শিশুর বাবা মারুফ মুন্সী।
স্বজনদের অভিযোগ, শিশুটিকে বিক্রি করা টাকার একটি অংশ দিয়ে আইফোন কেনা কিনছে তার বাবা।
শিশুটিকে কিনে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ইমরান বলেন, ‘মারুফ আমার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে এক লাখ টাকা নিয়েছে। তার স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্স হওয়ায় সন্তান পালন সম্ভব নয় বলে, শিশুটিকে লালন-পালনের জন্য আমার কাছে বিক্রি করে দিয়েছে।’
শিশুটির দাদি মাহফুজা বলেন, ‘আমার ছেলের সঙ্গে তার স্ত্রীর ঝামেলা থাকায় মুসাকে আমি লালন পালন করতাম। দুইদিন আগে আমার ছেলে ঢাকা থেকে বাড়িতে এসে মুসাকে নিয়ে যায়। পরে বাড়িতে ফিরে না এলে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, আমার নাতিকে অন্যের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। সেই টাকায় নাকি মোবাইল কিনেছে। আমি আমার নাতিকে ফেরত চাই এবং আমার ছেলের বিচার চাই।’
শিশুটির দাদা মফিজ মুন্সি বলেন, ‘আমি আমার নাতিকে ফেরত চাই। আমার সন্তান মারুফ ও ইমরানের বিচার চাই।’
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দের বছরের শিশুকে কীভাবে, কোন পরিস্থিতিতে এবং কী উদ্দেশ্যে অন্যের কাছে দেওয়া হয়েছে—তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে দশমিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘শিশুটিকে উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে ফেরত দেওয়ার জন্য কাজ চলমান রয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, ‘শিশু মুসাকে উদ্ধার করে তার দাদা দাদির কাছে ফিরিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া চলমান।’
কেকে/এআই