মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের কালিঘাট-হোসনাবাদ সড়কের সংস্কারকাজে ধীরগতির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হোসনাবাদ গ্রামসহ সাতটি চা-বাগানের কয়েক হাজার বাসিন্দা। বিকল্প সড়ক না থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন অসুস্থ রোগী, শিশু, বয়স্ক ও গর্ভবতী নারীরা।
এরই মধ্যে রোববার (৩০ আগস্ট) জরুরি চিকিৎসার জন্য এক মুমূর্ষু গর্ভবতী নারীকে নির্মাণাধীন সড়ক পার করে হাসপাতালে নিতে গিয়ে বিপাকে পড়েন স্বজন ও স্থানীয়রা। একপর্যায়ে তাকে কোলে তুলে ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক পার করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জঙ্গলবাড়ি, হোসনাবাদসহ সাতটি চা-বাগানের মানুষের যাতায়াতের প্রধান পথ কালিঘাট-হোসনাবাদ সড়ক। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে ট্রাক, জিপ, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। চা-বাগানের শ্রমিকদেরও যাতায়াতের জন্য সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ।
তবে দীর্ঘদিন ধরে আরসিসি ঢালাইসহ সংস্কারকাজ চললেও কাজের গতি সন্তোষজনক নয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে সড়কের বিভিন্ন অংশে চলাচল প্রায় দুরূহ হয়ে পড়েছে।
জঙ্গলবাড়ি চা-বাগান এলাকার বাসিন্দা শাহিন মিয়া বলেন, রোববার এক গর্ভবতী নারীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হয়। এ সময় নির্মাণকাজের ঠিকাদারের কাছে রোগীবাহী গাড়ি যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও তা দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
শাহিনের ভাষ্য, পরে স্থানীয়রা ওই নারীকে নির্মাণাধীন সড়ক দিয়ে পার করে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ভাঙাচোরা ও কাঁচা পথে চলার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে খিঁচুনি দিতে শুরু করেন। পরে উপস্থিত লোকজন তাকে কোলে তুলে নিরাপদ অংশে নিয়ে যান এবং হাসপাতালে পাঠান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাটি ঘিরে সেখানে আতঙ্ক তৈরি হয়। পরে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে অসুস্থ নারীকে ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক পার করে দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়নকাজ চললেও জরুরি রোগী ও সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য কার্যকর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে সামান্য অসুস্থতা কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতেও হাসপাতালে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কালিঘাট-মনু-দলই সার্কুলার রোড সংস্কার প্রকল্পের আওতায় সড়কটির কাজ চলছে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৫ লাখ ২২ হাজার ৮৪৬ টাকা। কাজটি পেয়েছে কমলগঞ্জের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সানি এন্টারপ্রাইজ। চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি।
তবে স্থানীয়রা বলছেন, প্রায় ছয় মাস আগে কাজ শুরু হলেও অগ্রগতি ধীর। পাশাপাশি কাজের মান নিয়েও শুরু থেকেই অসন্তোষ রয়েছে তাদের।
এর প্রতিবাদে গত ২৮ জুন সকালে এলাকাবাসী সড়কের অবশিষ্ট অংশের আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ বন্ধ করে দেন। একই সঙ্গে তারা শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে উপজেলা প্রশাসন, এলজিইডি কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে কয়েক দিন পর আবার কাজ শুরু হয় বলে জানা গেছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সানি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. হাসানুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করে সড়কটি পুরোপুরি চলাচলের উপযোগী করা হোক। কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত জরুরি রোগীসহ সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিকল্প ব্যবস্থা রাখারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
কেকে/সাশ