টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে অনশনে বসেছেন বৃষ্টি নামের এক তরুণী। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অনশনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই প্রেমিক সানী পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের রাউৎবাড়ি এলাকার। অনশনরত তরুণী আফরোজা আক্তার বৃষ্টি প্রবাসী আব্দুল হাই আকন্দের মেয়ে। তার প্রেমিক একই গ্রামের সাবেক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল আকন্দের ছেলে সোলাইমান হাসান সানী (৩১)। অভিযুক্ত সানী শনিবার বিকাল থেকে পালিয়ে আছেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী বৃষ্টি দীর্ঘদিন ধরে সানীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন। বৃষ্টির দাবি, সানী তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আট বছর ধরে স্ত্রীর মতো ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে এই সম্পর্কের সব ডকুমেন্ট রয়েছে। কয়েকদিন আগে সানীর প্রথম স্ত্রী আমাকে বাড়িতে আসতে ডেকেছিলেন।’
বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের সম্মতিতে রাত ৮টায় মীমাংসার সময় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই সানী পালিয়ে যান। বর্তমানে সানীর বাড়িতেই অনশন করছেন বৃষ্টি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত সানীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, সানীর প্রথম স্ত্রী সুমি জানান, ‘এই সম্পর্কের বিষয়ে আমরা কিছু জানতাম না।’
স্থানীয়রা জানান, সানীর প্রথম স্ত্রী ও তার তিন সন্তান রয়েছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বৃষ্টি ও স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ. কে. এম. রেজাউল করিম বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রেমিকের বাড়িতে স্থানীয় লোকজন ভিড় করেন। বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয়ভাবে আলোচনা ও সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও প্রেমিক বাড়িতে না থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে।
অনশনরত তরুণী বলেন, ‘আমাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। সে আমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এখন আমাকে বিয়ে না করে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আমি বিয়ের দাবিতে এখানে অবস্থান নিয়েছি।’
কেকে/ এমএস