মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা      বিএনপিতে উপেক্ষিত ত্যাগীরা      বেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানো নিয়েও আলোচনা হয়েছে : মন্ত্রিপরিষদ সচিব      ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত, মৃত্যু আরও চারজনের      নবম পে-স্কেলের অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা      সেপ্টেম্বরে অপরিবর্তিত থাকবে জ্বালানি তেলের মূল্য      হামের উপসর্গে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১২৫৬      
রাজনীতি
বিএনপির একাল-সেকাল : ৪৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলা
খোলা কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১০ পিএম আপডেট: ০১.০৯.২০২৬ ১২:১২ পিএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছরে বিএনপির রাজনৈতিক পথচলা ছিল নানা বাঁক ও চড়াই-উতরাইয়ে ভরা। কখনো রাষ্ট্রক্ষমতায়, কখনো বিরোধী দলের ভূমিকায় থেকে দলটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে। আন্দোলন-সংগ্রাম, কারাবরণ, রাজনৈতিক সংঘাত, নির্বাচন এবং সাংগঠনিক পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে দলটির ইতিহাস।

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়। জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও দেশের উন্নয়নকে সামনে রেখে দলটির যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর অল্প সময়ের মধ্যেই দলটি দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে।

১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে। কিন্তু ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হলে দলটি নেতৃত্বের সংকটে পড়ে। এরপর সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বিএনপি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের অবস্থান ধরে রাখে।

পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি রাজপথে সক্রিয় নেতৃত্ব দেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে এরশাদ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।

১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচন, একই বছরের জুনের নির্বাচন এবং ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচন—প্রতিটি পর্যায়েই বিএনপি বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার গঠন করে। ২০০৬ সালে সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংকট তীব্র হয়। ২০০৭ সালে দেশে জরুরি অবস্থা জারির পর বিএনপির শীর্ষ নেতাসহ দলের বহু নেতাকর্মী গ্রেপ্তার ও মামলার মুখোমুখি হন। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি আবারও বিরোধী দলের ভূমিকায় যায়।

এরপর দীর্ঘ সময় বিরোধী দলে থেকে বিএনপি সরকারবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যায়। ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে দলটি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও প্রত্যাশিত ফল পায়নি। এ সময় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবরণ, পরবর্তী সময়ে অসুস্থতা এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধতা বিএনপির নেতৃত্বে নতুন বাস্তবতা তৈরি করে।

এই পরিস্থিতিতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তার নেতৃত্বে বিএনপি সাংগঠনিক কার্যক্রম ও সরকারবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যায়। বিভিন্ন সময় মামলা, গ্রেপ্তার, রাজনৈতিক সংঘাত ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলটি নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করে।

২০২৪-২৬ : রাজপথ থেকে রাষ্ট্রক্ষমতায়

২০২৪ সাল বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে আসে। দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি ওই সময় সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিল। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে এবং ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। এরপর ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়।

সরকার পতনের পর রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির সামনে নতুন সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর দলটি নির্বাচনের প্রস্তুতি, সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং রাষ্ট্র পরিচালনার পরিকল্পনা সামনে রেখে এগোতে থাকে। একই সময়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার সম্ভাবনা ও নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

২০২৫ সালজুড়ে বিএনপি নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে থাকে। দলটির দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের পরিণতিতে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ক্রমেই সামনে আসে। ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি ব্যাপক সাংগঠনিক তৎপরতা চালায়।

অবশেষে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বড় জয় পায়। নির্বাচনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এবং নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে।

এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধী রাজনীতিতে থাকা বিএনপি আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসে। দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন দলটির ৪৮ বছরের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।

২০২৬ সালে সরকার গঠনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি দলটির ঘোষিত রাজনৈতিক ও নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের লক্ষ্য হিসেবে একটি আত্মনির্ভরশীল, নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কথা তুলে ধরেছেন।

২০২৪ সালের রাজপথের আন্দোলন থেকে ২০২৬ সালের রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন—এই দুই বছর বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় হয়ে উঠেছে। যে দলটি একসময় প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করেছিল, পরে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম করেছে, সেই ধারাবাহিকতায় এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে।

ফলে ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এসে বিএনপির ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়েছে নতুন প্রশ্ন—দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও বিরোধী দলের অভিজ্ঞতা পেছনে রেখে রাষ্ট্র পরিচালনায় দলটি কতটা সফলভাবে নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারে। সময়ই দেবে সেই প্রশ্নের উত্তর।

কেকে/সাশ 




আরও সংবাদ   বিষয়:  বিএনপি   ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

রাজনীতি- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close