লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে যে প্রতিক্রিয়ার ঢেউ উঠেছে, তার গভীর প্রভাব পড়েছে তার পরিবারেও। এ বিদায় কেবল জাতীয় দলের নীল-সাদা জার্সিতে দীর্ঘ বর্ণিল পথচলার শেষ নয়; সম্প্রতি বাবা ও পথপ্রদর্শক হোর্হে মেসির প্রয়াণে পরিবারে তৈরি হওয়া গভীর শূন্যতার মাঝে এসেছে এ সিদ্ধান্ত। এমন কঠিন ও আবেগঘন সময়ে ছেলেকে পরম মমতায় আগলে রেখে আবেগাপ্লুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মেসির মা সেলিয়া কুচ্চিত্তিনি।তার মা ছেলের এ অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি বার্তা দিলেন।
জাতীয় দল থেকে লিওনেল মেসির অবসর নেওয়ার ভাবনাটি অনেক আগে থেকেই জানা ছিল পরিবারের। তবুও বিদায়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মেসির মা সেলিয়া কুচ্চিত্তিনি। আর্জেন্টিনার টেলিভিশন অনুষ্ঠানে ইন্ত্রুসোস পাঠানো এক বার্তায় তিনি জানান, সিদ্ধান্তটির কথা জানা থাকলেও সোমবারের ঘোষণাটি পুরো পরিবারকেই গভীর বেদনায় ভাসিয়েছে। সেলিয়া বলেন, ‘যদিও আমরা ইতোমধ্যে জেনে গিয়েছিলাম, তারপরও পরিবারের আমরা সবাই খুব দুঃখ পেয়েছি।’
মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সির একাদশ কল্পনা করা যেকোনো ফুটবলপ্রেমীর জন্যই প্রায় অসম্ভব। দীর্ঘ দুই দশক ধরে যিনি ছিলেন দলের প্রাণভোমরা, সেই ১০ নম্বর জার্সিতে আর দেখা যাবে না জাতীয় দলের সবুজ মাঠে। তার বাঁ পায়ের সেই অনবদ্য জাদুকরী ড্রিবলিং, রক্ষণে চিড় ধরানো আণুবীক্ষণিক নিখুঁত পাস আর চোখ জুড়ানো গোল ছাড়া আলবিসেলেস্তেদের মাঠের লড়াই যেন এক নিঃসঙ্গ ও অপরিচিত রূপ ধারণ করবে। তবে সবকিছুর ওপর মেসিকে সুখী দেখতে চান সেলিয়া, ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো সে সুখী।’
মেসির অবসর প্রায় সময় রাতের খাবারের টেবিলে আলোচনা হতো। সেলিয়া পেছনে ফিরে গিয়ে বললেন, এ বিষয়টি তার বাবা হোর্হেকে সারারাত জাগিয়ে রাখত। গত ৮ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় একটি স্থানীয় ক্লিনিকে মারা যান মেসির বাবা ও দীর্ঘদিনের এজেন্ট হোর্হে। সেলিয়া মেসির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ‘বাবা সবসময় বলত: আমি যখন আর খেলব না, তখন আমি কী করব?’
মেসির বাবার মৃত্যু দেশের জার্সি আর না পরার পেছনে অন্যতম কারণ। তার বিদায়ী বার্তাতেও সেটি স্পষ্ট, ‘আমি নিঃস্ব। আমার আর দেওয়ার কিছু নেই। আমি এ কথাগুলো লিখেছিলাম ২১ জুলাই, বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষ হওয়ার দুই দিন পর। আজ, আমার বাবার যা হলো, তারপর আমি আগের চেয়ে আরও বেশি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
কেকে/এআই