৪৭ সেকেন্ডের রক্তিম অভিশাপ দিয়ে যে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সূচনা হয়েছিল, শেষটায় এসে তা রূপ নিল সোনার অক্ষরে লেখা এক মহাকাব্যে। ২০০৫ সালে হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে বিতর্কিত লাল কার্ডে কান্নায় ভেজা সেই ১৮ বছরের তরুণের বিদায়টা হলো এক বিশ্বকাপ জয় ও দুইবার রানারআপ হওয়ার মাধ্যমে।
লাল কার্ডের সেই অশ্রুসজল শুরুর পর বহু ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে, শেষপর্যন্ত ট্রফির মুকুট মাথায় দিয়েই আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিকে বিদায় জানালেন ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এ ফুটবল জাদুকর।
২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট, হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে স্বাগতিকদের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে জীবনের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন তিনি। তবে আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিতে অভিষেকের সেই সোনালী স্বপ্ন বাস্তবে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের এক দুঃস্বপ্নে রূপ নেয়। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৩ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই ৪৭ সেকেন্ডের মধ্যে লাল কার্ড দেখে মাঠও ছাড়েন তিনি।
হাঙ্গেরির বিপক্ষে অভিষেকের দিন লাল কার্ড দেখার নেপথ্যে ছিলেন প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় ভিলমোস ভানচাক। তবে মাঠের সেই ঘটনাকে আদৌ কোনো রক্তক্ষয়ী সংঘাত বলা চলে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল বোদ্ধাদের মাঝে আজও বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, তৎকালীন রেফারি মার্কাস মার্কের দেওয়া সিদ্ধান্তটি ছিল অত্যন্ত কঠোর ও বিতর্কিত; কারণ ভানচাক সেদিন মেসির অনভিপ্রেত ছোঁয়াকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত নাটকীয়তা বা অভিনয় করেছিলেন।
ডিফেন্ডার ভিলমোস ভানচাক মেসির জার্সি টেনে ধরেছিলেন। বল নিয়ে ছোটা মেসি নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে পেছনের দিকে হাত চালান, যা ভানচাকের মুখে লাগে। জার্মান রেফারি মার্কুস মের্ক সেটিকে ইচ্ছাকৃত কনুই আঘাত হিসেবে বিবেচনা করে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।
সেটি লাল কার্ড দেওয়ার মতো ঘটনা ছিল মনে করেন ভিলমোস ভানচাক, ‘আমার মনে হয় না, সে ইচ্ছা করে আমাকে কনুই দিয়ে আঘাত করতে চেয়েছিল। সে আসলে নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল, আর সেই সময় তার কনুই আমার গলায় লাগে। তবে আমি ভাবিনি যে সে লাল কার্ড দেখবে। এটা তো স্রেফ একটি প্রীতি ম্যাচ ছিল।’
মাঠ ছাড়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন মেসি। এ সিদ্ধান্তে অবাক হয়ে যায় গোটা ফুটবল বিশ্ব। পরে মেসি বলেছিলেন, ‘আমি যেভাবে অভিষেকের স্বপ্ন দেখেছিলাম, এটা মোটেও সেভাবে হয়নি।’
কেকে/এআই