কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের প্রায় ৫ হাজার পরিবারের মধ্যে প্রায় দুই হাজার পরিবার এখন অর্থকষ্টে ভুগছে। তাদের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন নিন্ম আয়ের মানুষ। এদের মধ্যে অন্যতম হলো নরসুন্দর পেশায় নিয়োজিতরা। যারা পূর্বপুরুষের ঐতিহ্যবাহী পেশাকে বাঁচাতে ধরে রেখেছেন, কিস্তু তাদের বর্তমান আর্থিক দুরাবস্থা দেখার কেউ নেই।
চাকির পশার ইউনিয়নের নাপিত পরিবারের জয়কান্ত শীল (৭৫) বলেন, ‘আমি এখন অর্থভাবে জীবন যাপন করছি। আমার ছেলে-পেলেরা আছে। তারা সেলুন দিয়েছে কিন্তু আমি বুড়ো মানুষ আমার পক্ষে সেলুন দেওয়া সম্ভব নয়, ছেলেরাও আমাকে পূষতেছে না।’
ওমর মজিদ ইউনিয়নের পান্তাপাড়া গ্রামের জনৈক জয় রাম বলেন, ‘আমরা তো আর অন্য পেশায় যাইতে পারি না বাপ-দাদার দিয়ে যাওয়া পেশা, এটিকে নিয়েই আছি।’
ঘড়িয়াল ডাঙ্গা ইউনিয়নের পুরান সিঙ্গেরডাবরী এলাকায় বসবাস করছেন সুবাস চন্দ্র শীল, পেশায় একজন নরসুন্দর। পূর্বপুরুষের রেখে যাওয়া এ পেশাকে আঁকড়ে ধরে অতিবাহিত করছেন জীবনের ষাটটি বছর। থামেননি এখনও।
জানা যায়, সুবাস চন্দ্র শীলের পিতা হেমন্ত চন্দ্র শীলও একজন নরসুন্দর ছিলেন। শুধু তাই নয় এটি তাদের পূর্বপুরুষের রেখে যাওয়া পারিবারিক পেশা। পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য ধরে রাখতে এখনও নিরলসভাবে মানুষের সেবা দিয়ে আসছেন সুবাস চন্দ্র শীল।
সরোয়ার জাহান বলেন, ‘আমার বয়স পয়তাল্লিশ, বারো বছর বয়স থেকে মাটিতে বসে ওনার কাছে চুলদাড়ি ছাটিয়ে নিচ্ছি। যদিও আমার সন্তানেরা এ পরিবেশে চুলদাড়ি ছাটাতে চায়না। সুবাস চন্দ্র শীল একসময় বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের চুলদাড়ি ছাটতেন। বিনিময়ে নিতেন, টাকা, গম, চালসহ শস্যপণ্য।’
সুবাস চন্দ্র শীলের ছেলে নারায়ণ চন্দ্র শীল বলেন, ‘আমাদের এটা পূর্বপুরুষের পেশা। তবে সময় পাল্টে গেছে, এখন আর তেমন কেউ, বিশেষ করে তরুণ ছেলেরা মাটিতে বসে চুলদাড়ি ছাটাতে চান না। ফলে বাজারে চুলকাটার আধুনিক সেলুন দিয়েছি।’
সুবাস চন্দ্র শীল (৭২) বলেন, ‘১২ বছর বয়সে এ কাজ শুরু করেছি। বাপ-দাদারা এ কাজ করেছেন। তাদের কাছ থেকেই শিখেছি। অন্য কাজ করার সুযোগ থাকলেও নিজের পূর্বপুরুষের পেশাটাকে ছাড়তে মন চায়নি। এই কাজ করেই জীবনের অনেকটা সময় পার করেছি।’
কেকে/এআই