বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় অপহরণের শিকার চার মাস পাঁচ দিন বয়সী শিশু মারুফা জান্নাত মাহিকে চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধার করেছে র্যাব। এ ঘটনায় করা মামলার এজাহারনামীয় দুই আসামিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্দর থানাধীন কমিশনার গলির কাঁচাবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে র্যাব-৭ ও র্যাব-১৫-এর যৌথ দল।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— মামলার ৩ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি মো. আলম ওরফে নুরুল আলম (৩০) এবং ৪ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি মারিয়া ওরফে সানজিনা আক্তার তিশা (২৫)। অভিযানের সময় তাদের হেফাজত থেকে অপহৃত শিশু মারুফা জান্নাত মাহিকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া শিশু মারুফা জান্নাত মাহি নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ছালামীপাড়া এলাকার মো. রশিদ উল্লাহ ও ইয়াছমিন আক্তার দম্পতির সন্তান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ আগস্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় শিশুটিকে অপহরণের অভিযোগে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মামলা করা হয়। মামলা হওয়ার পরপরই শিশুটিকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হকের দিকনির্দেশনায় শিশুটিকে উদ্ধারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান ও তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রাখা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৭ ও র্যাব-১৫-এর যৌথ দল চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্দর থানার কমিশনার গলির কাঁচাবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। পরে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার এবং তাদের হেফাজত থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুই আসামি নিজেদের পরিচয় ও ঠিকানা জানালেও শিশুটিকে কেন এবং কীভাবে তাদের হেফাজতে রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।
মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘শিশু অপহরণ মামলার এজাহারনামীয় দুই আসামিকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের হেফাজত থেকে অপহৃত শিশুটিকেও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। শিশুটিকে কীভাবে অপহরণ করা হয়েছিল এবং এর পেছনে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তদন্তের মাধ্যমে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
এদিকে দীর্ঘ কয়েকদিন পর শিশুটিকে উদ্ধারের ঘটনায় স্বস্তি ফিরেছে পরিবারের মধ্যে। শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।
কেকে/এআই