সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬,
১৮ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ● অক্টোবরে রেমিট্যান্সে রেকর্ড, দেশে এসেছে ২৮৭ কোটি ডলার      ● পোশাক কারখানার উৎপাদন সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ      ● রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর      ● গার্মেন্টস শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে বোর্ড গঠন, গেজেট প্রকাশ      ● ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ জনের প্রাণহানি      ● শ্রমিকদের বিক্ষোভে রাষ্ট্রবিরোধী চক্র যুক্ত হতে পারে: পুলিশ      ● শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে: শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী      
প্রিয় ক্যাম্পাস
শিক্ষকের মেসেজে হা হা রিঅ্যাক্ট, আটকে দেওয়া হলো শিক্ষার্থীর সার্টিফিকেট
কুবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১০ এএম আপডেট: ০২.০৯.২০২৬ ১১:১৫ এএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

শিক্ষকের মেসেজে ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেওয়াকে অশোভন আচরণ হিসেবে উল্লেখ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) মার্কেটিং বিভাগের এক শিক্ষার্থীর সার্টিফিকেট আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান মার্কেটিং বিভাগের এমবিএ ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার অভিযোগ, ইন্টার্নশিপের ফলাফল নিয়ে শিক্ষককে ধন্যবাদ জানিয়ে মেসেজ দেওয়ার পর শিক্ষক পাল্টা মেসেজ দিলে তাতে তিনি ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেন। এ ঘটনাকে অশোভন আচরণ হিসেবে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত ২৫ আগস্ট মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহের নিগারের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ রেজিস্ট্রার দপ্তরে জমা দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাশিয়াত যাহিন শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগটি বিভাগীয় প্রধানকে জানান। পরে বিষয়টি একাডেমিক সভায় উত্থাপন করা হয়। সভায় উপস্থিত শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা শেষে বিষয়টি রেজিস্ট্রারের কাছে জানানো হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, এমবিএ ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান ইন্টার্নশিপ কার্যক্রমে যথাযথ মনোযোগ ও আন্তরিকতা প্রদর্শন করেননি। তিনি নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে ইন্টার্নশিপ প্রতিবেদন জমা দেন। এরপরও শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রতিবেদন গ্রহণ করা হয়। প্রচলিত মূল্যায়ন পদ্ধতি ও প্রতিবেদনের গুণগত মানের ভিত্তিতে তাঁকে নম্বর দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ফলাফল প্রকাশের পর মুজিবুর রহমান শিক্ষককে জানান যে তিনি ইন্টার্নশিপে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এ সময় তিনি ব্যঙ্গাত্মক ও শিষ্টাচারবহির্ভূতভাবে শিক্ষককে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, তিনি তাকে মনে রাখবেন। পরে শিক্ষক ওই বক্তব্যের জবাব দিলে শিক্ষার্থী তাতে ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেন। অভিযোগপত্রে এই প্রতিক্রিয়াকে শিক্ষকের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী শিক্ষক মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাশিয়াত যাহিন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার যথাযথভাবে যেভাবে জানানো উচিত ছিল, আমি সেভাবেই জানিয়েছি। এখন বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনই পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে। তাঁরা কী ভাবছেন, কী হবে বা কী হবে না—সেটা তারাই বলবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার সঙ্গে যে ঘটনাটি ঘটেছে, আমার মনে হয়েছে বিষয়টি যথাযথ প্রক্রিয়ায় জানানো উচিত। সঠিক চ্যানেল অনুসরণ করে বিভাগীয় প্রধানের মাধ্যমে আমি রেজিস্ট্রার বরাবর বিষয়টি জানিয়েছি। এর পরবর্তী কোনো বিষয়ে আমি অবগত নই।’

তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমি সার্টিফিকেট নিতে বিভাগে আসার পর সিআরের মাধ্যমে অফিস থেকে আমাকে ফোন দিয়ে বলা হয়, আমি যেন সার্টিফিকেট না তুলি। বিভাগের সঙ্গে বিষয়টি ক্লিয়ার না করা পর্যন্ত সার্টিফিকেট দেওয়া হবে না।’

পরে বিভাগীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বিভাগে গিয়েছি, কিন্তু চেয়ারম্যান ম্যামকে পাইনি। পরে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, রেজিস্ট্রার অফিসে অভিযোগ আছে। অভিযোগের বিষয়টি শেষ হলে তাঁরা আমাকে জানাবেন, সার্টিফিকেট নেওয়ার ক্ষেত্রে আমার কী করতে হবে।’

‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেওয়াকে অশোভন আচরণ হিসেবে গণ্য করা যায় কি না—এমন প্রশ্ন তুলে মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমি একটি মেসেজে ধন্যবাদ দিয়েছি, উনি রিপ্লাই দিয়েছেন। সেখানে আমি ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দিয়েছি। এখন একটি ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’-এর জন্য আমার সার্টিফিকেট আটকানো যায় কি না, সেটাই আমি জানতে চাই। আমার অন্য কাজ আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর আমাকে জানানো হয়েছে যে আমার সার্টিফিকেট তোলা যাবে না। আমাকে ইন্টার্নশিপে নম্বর কম দিয়েছেন—এটা নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। এটা শিক্ষকের জাজমেন্ট।’

এ বিষয়ে মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহের নিগার বলেন, ‘ওনার বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো, কোর্স টিচারের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন। কী ঘটেছিল, সেটা ওনার কোর্স টিচারই ভালো বলতে পারবেন। রেজিস্ট্রার দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। সার্টিফিকেট আটকানো এ বিষয়ে আমি এখনও জানি না। প্রশাসন যে ব্যবস্থা নেওয়ার, তারা সেটা নেবে।’

তবে শিক্ষার্থীর সার্টিফিকেট আটকে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে সার্টিফিকেট আটকাতে পারে না। যদি কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, তারা আমাদেরকে সাময়িকভাবে আটকে রাখার জন্য সুপারিশ করতে পারেন।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘আমরা এরকম একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি উপ-উপাচার্যের কাছে পাঠানো হবে। তিনি বিষয়টি দেখবেন।’

কেকে/এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  হা হা রিঅ্যাক্ট   কুবি শিক্ষার্থী   সার্টিফিকেট   
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

প্রিয় ক্যাম্পাস- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close