চোখে ঝাপসা দৃষ্টিশক্তি, শরীরে বয়সের ভারে নুইয়ে পড়েছে ছুরুতি খাতুন। কারও কাছে হাত পাতার শক্তিটুকুও আর অবশিষ্ট নেই। সব হারিয়ে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে শুধু একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই আর দুই বেলা দু’মুঠো খাবারের নিশ্চয়তা চান ৮৯ বছর বয়সী মোসাম্মৎ ছুরুতি খাতুন।
জানা যায়, ছুরুতি খাতুন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের প্রতাপপুর গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় দুই দশক আগে হারিয়েছেন স্বামীকে। চার মেয়ে ও এক ছেলের জননী ছুরুতি খাতুনের সংসার ঘিরে ছিল সন্তানদের স্বপ্ন।
কিন্তু ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাসে সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। প্রায় আট বছর আগে খাদ্যনালীর জটিলতায় মারা যান তাকে দেখাশোনা করা মেয়ে। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় একমাত্র ছেলে সোহরাবেরও। পরপর দুই সন্তানকে হারিয়ে যেন গোটা পৃথিবীটাই শূন্য হয়ে গেছে তার কাছে।
নিজের নামে নেই এক টুকরো জমি, নেই মাথা গোঁজার মতো ঘরও। পরের বাড়ির বারান্দায় আশ্রয় নিয়ে কোনোমতে দিন কাটছে। দূরসম্পর্কের এক ভাই কখনো খাবার দিলে জোটে খাবার, না দিলে না খেয়েই কাটে দিন-রাত্রি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছুরুতি খাতুন বলেন, ‘লজ্জায় কারও কাছে হাত পাততে পারি না। অনেকের কাছে নিজের অসহায়ত্বের কথা বলেছি, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি।’
জীবনের শেষ বেলায় তার চাওয়া খুব বেশি কিছু নয়—একটি ছোট মাথাগোঁজার ঠাঁই, আর বাকি দিনগুলো যেন দু’বেলা পেট ভরে খেয়ে একটু শান্তিতে কাটাতে পারেন।
সরকার, সমাজের বিত্তবান মানুষ কিংবা কোনো মানবিক সংগঠন এগিয়ে এলে হয়তো জীবনের শেষ কটা দিন একটু নিরাপদে, একটু মর্যাদার সঙ্গে কাটাতে পারবেন এ অসহায় বৃদ্ধা।
একটি ঘর, দু’বেলা অন্ন—এ সামান্য চাওয়াটুকুই এখন ৮৯ বছর বয়সী ছুরুতি খাতুনের বেঁচে থাকার শেষ স্বপ্ন।