উত্তম কুমার—বাংলা চলচ্চিত্রে এই একটি নামই যেন একটি পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস। পর্দায় তার উপস্থিতি, অভিনয়ের মাধুর্য আর ব্যক্তিত্বের দীপ্তি তাকে শুধু জনপ্রিয় অভিনেতা নয়, বাঙালির কাছে চিরকালীন ‘মহানায়ক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মৃত্যুর কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও দর্শকের হৃদয়ে তার আবেদন আজও অমলিন।
ভারতীয়-বাঙালি চলচ্চিত্রের এই কিংবদন্তি শিল্পী অভিনয়ের পাশাপাশি ছিলেন চিত্রপ্রযোজক, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, সঙ্গীত পরিচালক ও গায়ক। চলচ্চিত্রের নানা ক্ষেত্রে তার প্রতিভার বিচরণ বাংলা সিনেমাকে সমৃদ্ধ করেছে।
বিশেষ করে সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তার জুটি বাংলা চলচ্চিত্রে তৈরি করেছে এক অনন্য অধ্যায়। তাদের অভিনীত অসংখ্য সিনেমা আজও দর্শকের কাছে সমান জনপ্রিয়। রোমান্টিক নায়ক হিসেবে উত্তম কুমারের যে জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছিল, তা পরবর্তী সময়ে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে আরও বিস্তৃত হয়।
১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন উত্তম কুমার। ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই মাত্র ৫৩ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তবে তাঁর চলে যাওয়া বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর প্রভাবকে মুছে দিতে পারেনি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর অভিনয়, সিনেমা ও ব্যক্তিত্ব নতুন প্রজন্মের কাছেও আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।
জন্মশতবর্ষে তাই উত্তম কুমারকে স্মরণ মানে শুধু একজন প্রয়াত অভিনেতাকে ফিরে দেখা নয়; বরং বাংলা চলচ্চিত্রের এক সোনালি অধ্যায়ের কাছে ফিরে যাওয়া। তার অভিনীত সিনেমা, সংলাপ ও চরিত্র আজও দর্শকের মনে যে আবেগ তৈরি করে, সেটিই প্রমাণ করে—মহানায়করা কখনো সত্যিকার অর্থে হারিয়ে যান না।
কেকে/সাশ