ভারতের গুজরাটের নর্মদা জেলার একতা নগরে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।
স্ট্যাচু অব ইউনিটির পাদদেশে আয়োজিত এবারের অনুষ্ঠানে ৯৯ জন বিজয়ীকে সম্মাননা দেওয়া হয়। কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম নয়াদিল্লির বাইরে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলো।
জুলাইয়ে ঘোষণা করা পুরস্কারের তালিকা অনুযায়ী, রাজনৈতিক অ্যাকশনধর্মী সিনেমা ‘আর্টিকেল ৩৭০’ সেরা ফিচার ফিল্মের পুরস্কার পেয়েছে। ‘চান্দু চ্যাম্পিয়ন’ সিনেমার জন্য কার্তিক আরিয়ান এবং মালয়ালম তারকা মাম্মুট্টি ‘ব্রামায়ুগম’ সিনেমার জন্য যৌথভাবে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন। ‘আর্টিকেল ৩৭০’-এর জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন ইয়ামি গৌতম। ‘আমরণ’ সিনেমার জন্য সেরা পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছেন রাজকুমার পেরিয়াসামি।
ভারতীয় চলচ্চিত্রে পাঁচ দশকের বেশি সময়ের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রবীণ অভিনেতা অনন্ত নাগকে দেওয়া হয়েছে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার।
অভিনেতা থেকে নির্মাতা হওয়া রণদীপ হুডা ‘স্বাতন্ত্র্য বীর সাভারকর’ সিনেমার জন্য সেরা নবাগত পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’ পেয়েছে সেরা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র—সুস্থ বিনোদন প্রদানের পুরস্কার। ‘ক্যাপ্টেন মিলার’ পেয়েছে জাতীয়, সামাজিক মূল্যবোধ প্রচারে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার। শিশুতোষ চলচ্চিত্র হিসেবে সেরা হয়েছে ‘চিন্না কথা কাদু’।
‘ক্যাপ্টেন মিলার’-এর জন্য ফিচার ফিল্ম বিভাগে বিশেষ সম্মাননা পেয়েছেন অভিনেতা ও পরিচালক ধানুশ। একই সঙ্গে ‘রায়ান’ সিনেমার জন্য সেরা তামিল চলচ্চিত্রের পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি।
এ ছাড়া বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষার সেরা চলচ্চিত্র এবং নন-ফিচার বিভাগেও পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
কয়েক দশক পর এবারই প্রথম নয়াদিল্লির বাইরে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের অনুষ্ঠান হলো। এর আগে ১৯৭০ সালে ১৭তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছিল মাদ্রাজের (বর্তমান চেন্নাই) ইউনিভার্সিটি সেন্টেনারি অডিটোরিয়ামে।
অনুষ্ঠানের স্থান পরিবর্তনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ জানায়নি। তবে এবারের পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে নির্মাতা আনন্দ এল রাইও রয়েছেন। স্ট্যাচু অব ইউনিটি নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘স্ট্যাচু অব ইউনিটি—একতা কা প্রতীক’-এর জন্য নন-ফিচার বিভাগে সেরা পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।
কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সাংবাদিকদের বলেন, “দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও দর্শনীয় স্থানে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অনুপ্রেরণায় দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে এ আয়োজন নেওয়ার কথা জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের জন্য স্ট্যাচু অব ইউনিটি কমপ্লেক্সের বাস বে এলাকায় অস্থায়ী ভেন্যু নির্মাণ করা হয়। সেখানে জার্মান অ্যালুমিনিয়ামের কাঠামো, ডোম, আসনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করা হয়। প্রায় ৭৫ মিনিট ধরে চলে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান।
৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের বিজয়ীদের নাম গত ১৮ জুলাই নয়াদিল্লিতে ঘোষণা করা হয়। ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র প্রত্যয়ন বোর্ড (সিবিএফসি) কর্তৃক ছাড়পত্র পাওয়া চলচ্চিত্রগুলোকে এবারের পুরস্কারের জন্য বিবেচনা করা হয়।
সূত্র: দ্য হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়া
কেকে/সাশ