গত ২৪ ঘণ্টায় কিশোরগঞ্জে নতুন করে আরও ২১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৩ জন। তবে এ সময়ে ডেঙ্গুতে নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় মোট ৬৯০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ৬২৫ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ৬৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য।
হাসপাতালভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৬ জন এবং ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।
এ ছাড়া বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬ জন, ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১২ জন, করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন, কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন, হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন, পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন, ইটনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন, নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন এবং প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগী সালিম হোসেন বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে জ্বর, শরীর ব্যথা ও প্রচণ্ড দুর্বলতা অনুভব করছিলাম। পরে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এরপর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি। এখন কিছুটা ভালো আছি।’
চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এ সময় পর্যাপ্ত পানি ও তরলজাতীয় খাবার গ্রহণের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে হবে। একই সঙ্গে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মশার বংশবিস্তারস্থল ধ্বংস এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা। এ বিষয়ে প্রশাসন ও পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মশার বংশবিস্তার রোধে মশকনাশক স্প্রে নিয়মিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
কেকে/ এমএস