ভোলার লালমোহন উপজেলায় অতিবৃষ্টিতে জমে থাকা পানি, কোথাও বীজতলার চারা নষ্ট হওয়া, আবার কোথাও অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আমন আবাদে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। যার ফলে এবারের আমান আবাদ কিছুটা দেরিতে হচ্ছে। তবে এ সব বিপত্তি পেরিয়ে বর্তমানে আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। এমনটাই জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহ মো. আরিফুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণের কারণে অনেকগুলো কালভার্ট বন্ধ হয়ে গেছে। যার জন্য আমনের মাঠে জমে থাকা বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ফসলের মাঠের পানি অপসারণ প্রবাহ কমে যাওয়ায় জমিতে পানি থাকায় আবাদে দেরি হয়েছে। তবে শুরুতেই আমাদের অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আমন বীজধান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যার জন্য বৃষ্টিতে কিছু কিছু বীজতলা নষ্ট হলেও কৃষকদের চারার জন্য তেমন একটা বেগ পেতে হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ শেষ হয়েছে। এছাড়া আগামী কিছুদিনের মধ্যেই বাকি জমিগুলোতে ধানের চারা রোপণ শেষ হয়ে যাবে। এজন্য আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে নিয়মিত মাঠে কাজ করছেন।’
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, লালমোহন উপজেলায় চলতি মৌসুমে মোট ২৩ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উফশী ও স্বর্ণা জাতসহ বিভিন্ন উচ্চফলনশীল জাতের ধান ২২ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে, স্থানীয় জাতের রোপা আমন ১ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে এবং নতুন হাইব্রিড-৪ জাতের ধান ২০ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
এদিকে অতিবৃষ্টির কারণে আমন আবাদে শুরুতে কিছুটা বিপাকে পড়লেও এখন মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এমন দৃশ্য।
চরভূতা ইউনিয়নের তারাগঞ্জ এলাকার কৃষক মো. বেলাল বলেন, ‘এ বছর প্রায় ১৮৮ শতাংশ জমিতে আমন ধান চাষের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। এরই মধ্যে কিছু জমিতে চারা রোপণ শুরু করেছি। অতিবৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে থাকায় কিছুটা দেরি হয়েছে। বৃষ্টিতে প্রথম দফায় বীজতলার চারা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আবার নতুন করে চারা তৈরি করতে হয়েছে। ধানের চারা উৎপাদন থেকে শুরু করে জমিতে রোপণ শেষ করা পর্যন্ত প্রায় ৯০ হাজার টাকা খরচ হবে।’
ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বালিরটেক এলাকার কৃষক মো. আবু তাহের এবার ৩৬০ শতাংশ জমিতে আমন ধান চাষ করবেন।
তিনি বলেন, ‘বৃষ্টিতে বীজতলার কিছুটা সমস্যা হয়েছে। তবে আশা করছি তা কাটিয়ে উঠতে পারবো। জমিতে চাষ দেওয়া শেষ করে চারা রোপণের জন্য প্রস্তুত করেছি। বীজতলায় চারা উৎপাদন থেকে শুরু করে জমি প্রস্তুত করতে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আশা করছি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমনের ভালো ফলন পাওয়া যাবে।’
কেকে/এআই