বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৯ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: বিচারবহির্ভূত খুন ও মিথ্যা মামলা বন্ধে পুলিশকে রাষ্ট্রপতির নির্দেশ      ২০২৫ সালের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী      আগামী বছরের বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা      হাসিনা-রেহানার বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক      সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু নয়, সবাই নিজেদের বাংলাদেশি মনে করি : প্রধানমন্ত্রী      দৃষ্টিভঙ্গি বদলাচ্ছে ভারত      নানামুখী সংকটে বাড়ছে অসন্তোষ      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
আবাসন প্রকল্পে এসটিপি স্থাপন : পরিবেশ সুরক্ষা নাকি আবাসন শিল্প ধ্বংসের ঝুঁকি?
এএসএম আবদুল গাফফার মিয়াজী
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৬ পিএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

বাংলাদেশের দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে পয়ঃবর্জ্য শোধন একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু। পরিবেশ রক্ষা, জলাশয় ও নদী-খাল দূষণ রোধ এবং জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা প্রয়োজন এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু পরিবেশ রক্ষার নামে এমন কোনো বিধান যদি আবাসন প্রকল্পের ওপর বাস্তবতা বিবর্জিত, অতিরিক্ত ব্যয়বহুল ও এককেন্দ্রিক প্রযুক্তিগত বাধ্যবাধকতা তৈরি করে, তাহলে সেটি আবাসন শিল্প, বিনিয়োগকারী এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে ৫ কাঠা বা তদূর্ধ্ব জমির ক্ষেত্রে সিউয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের (এসটিপি) সংস্থান ও বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক করার বিধান নিয়ে আবাসন খাতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালের গেজেটভুক্ত বিধিমালায় ৫ কাঠা বা তার বেশি জমির ভবনের নকশা অনুমোদনের সময় এসটিপির সংস্থান এবং নির্মাণকালে তা বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। একই বিধানে ঢাকা ওয়াসার পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত ভবনের ক্ষেত্রে এসটিপি প্রয়োজন হবে না- এমন ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে। অর্থাৎ বিষয়টি সরাসরি “এসটিপির বিরুদ্ধে” অবস্থান নেওয়ার নয়; বরং প্রশ্ন হলো সব ধরনের আবাসন প্রকল্পে একই নিয়মে এসটিপি চাপিয়ে দেওয়া কতটা বাস্তবসম্মত, অর্থনৈতিকভাবে সহনীয় এবং পরিবেশগতভাবে কার্যকর?

পরিবেশ রক্ষা অবশ্যই প্রয়োজন :

প্রথমেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন আবাসন শিল্প পরিবেশের বিপক্ষে নয়। বরং একটি আধুনিক আবাসন প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত নিরাপদ পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ, সবুজায়ন এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ। একটি আবাসিক এলাকায় অপরিশোধিত পয়ঃবর্জ্য যদি খাল, ডোবা, জলাশয় বা নদীতে গিয়ে পড়ে, তাহলে পানি দূষিত হয়, দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়, রোগজীবাণু ছড়ায় এবং জলজ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক। পরিবেশ অধিদপ্তরের বর্তমান অনলাইন সেবাতেও এসটিপি/ইটিপি ডিজাইন অ্যাপ্রুভাল, এনভায়রনমেন্টাল ক্লিয়ারেন্স, ইআইএ এবং অন্যান্য পরিবেশগত অনুমোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। তাই আবাসন প্রকল্পে পরিবেশগত মান নিশ্চিত করার দাবি যৌক্তিক। কিন্তু পরিবেশ রক্ষার পদ্ধতি হতে হবে বাস্তবভিত্তিক।

সমস্যা হচ্ছে একক সমাধান চাপিয়ে দেওয়া :

বাংলাদেশের সব আবাসন প্রকল্প একই ধরনের নয়। কোনো প্রকল্প ১০ একর জমিতে কয়েকশ পরিবার নিয়ে গড়ে উঠছে, আবার কোনো প্রকল্প অপেক্ষাকৃত ছোট এলাকায় কয়েকটি ভবন নিয়ে তৈরি হচ্ছে। কোথাও কাছাকাছি সরকারি বা সিটি করপোরেশনের পয়ঃনিষ্কাশন নেটওয়ার্ক আছে, কোথাও নেই।

আবার কোনো এলাকায় আঞ্চলিক এসটিপি স্থাপনের সুযোগ রয়েছে, কোথাও একটি প্রকল্পের জন্য আলাদা এসটিপি স্থাপন করাই বাস্তবসম্মত হতে পারে। সুতরাং সব প্রকল্পের জন্য একই প্রযুক্তি, একই আকারের অবকাঠামো এবং একই ধরনের ব্যয় নির্ধারণ করলে সেটি প্রকল্পভেদে অযৌক্তিক হয়ে যেতে পারে। নীতি হওয়া উচিত “যেখানে যে ব্যবস্থা পরিবেশগতভাবে কার্যকর ও অর্থনৈতিকভাবে যুক্তিসঙ্গত, সেখানে সেই ব্যবস্থা।”

এসটিপির ব্যয় শেষ পর্যন্ত ক্রেতাকেই বহন করতে হবে :

একটি আবাসন প্রকল্পে এসটিপি শুধু একটি যন্ত্র স্থাপন করার বিষয় নয়। এর জন্য জমি, নকশা, নির্মাণ, যন্ত্রপাতি, বিদ্যুৎ, পাম্প, পাইপলাইন, অপারেশন, দক্ষ জনবল, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিয়মিত মনিটরিং প্রয়োজন। একটি প্রকল্পে এসটিপি স্থাপন করা হলে তার মূলধনী ব্যয়ের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন ব্যয়ও তৈরি হয়।

ডেভেলপার কোনো ব্যয় নিজে বহন করলেও সেটি শেষ পর্যন্ত প্রকল্পের সামগ্রিক ব্যয়ের অংশ হয়ে যায়। ফলে ফ্ল্যাটের দাম বাড়তে পারে। বর্তমানে নির্মাণসামগ্রীর মূল্য, জমির মূল্য, ব্যাংক সুদ, শ্রমিক ব্যয় এবং অন্যান্য অনুমোদন-সংক্রান্ত ব্যয়ের চাপের মধ্যে থাকা আবাসন খাতে অতিরিক্ত ব্যয় সরাসরি ক্রেতার ওপর পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর :

যে পরিবার দীর্ঘদিনের সঞ্চয় দিয়ে একটি ফ্ল্যাট কেনার পরিকল্পনা করছে, তার কাছে অতিরিক্ত কয়েক লাখ টাকা বা তারও বেশি মূল্যবৃদ্ধি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আবাসন সংকট আরও বাড়তে পারে :

বাংলাদেশে শহরাঞ্চলে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসনের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো শহরে জমির মূল্য এত বেশি যে সাধারণ মানুষের জন্য নিজস্ব জমিতে বাড়ি করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বহুতল আবাসন ও পরিকল্পিত আবাসন প্রকল্পই সাধারণ মানুষের জন্য তুলনামূলক বাস্তবসম্মত সমাধান।

যদি আবাসন প্রকল্পের ওপর একের পর এক অতিরিক্ত ব্যয়বহুল বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়, তাহলে নতুন প্রকল্পের সংখ্যা কমে যেতে পারে। ডেভেলপাররা নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হতে পারেন। জমির উন্নয়ন কমে গেলে সরবরাহ কমবে এবং সরবরাহ কমলে স্বাভাবিকভাবেই ফ্ল্যাটের দাম বাড়ার সম্ভাবনা থাকবে। অর্থাৎ পরিবেশ রক্ষার উদ্দেশ্যে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত যদি আবাসনের সরবরাহ কমিয়ে দেয়, তাহলে তার সামাজিক প্রভাবও বিবেচনায় নিতে হবে।

এসটিপি স্থাপন করলেই কি পরিবেশ রক্ষা নিশ্চিত :

এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। শুধু একটি এসটিপি স্থাপন করলেই পরিবেশ দূষণ বন্ধ হয় না। এসটিপি সঠিকভাবে ডিজাইন না হলে, পর্যাপ্ত ক্ষমতা না থাকলে, নিয়মিত পরিচালনা না হলে বা রক্ষণাবেক্ষণ না হলে সেটি কার্যকর থাকবে না। একটি এসটিপি স্থাপনের পর নিয়মিত বিদ্যুৎ প্রয়োজন, প্রশিক্ষিত অপারেটর প্রয়োজন, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন এবং নির্ধারিত মান অনুযায়ী বর্জ্য শোধন হচ্ছে কি না তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

অতএব সরকারের উচিত শুধু “এসটিপি আছে কি না” দেখা নয়; বরং “এসটিপি কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না” এটি নিশ্চিত করা। পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিবেশগত অনুমোদন ব্যবস্থায় এসটিপি ডিজাইন অ্যাপ্রুভাল ও এনভায়রনমেন্টাল ক্লিয়ারেন্সের মতো প্রক্রিয়া থাকার বিষয়টি এ কারণেই গুরুত্বপূর্ণ। 

আঞ্চলিক এসটিপি হতে পারে কার্যকর বিকল্প :

একটি প্রকল্পে একটি এসটিপি করার পরিবর্তে একই এলাকার একাধিক আবাসন প্রকল্পের জন্য রেজিওনাল এসটিপি গড়ে তোলা অনেক ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে পূর্বাচল নিউ টাউন প্রকল্পে রাজউকের উদ্যোগে সিউয়ারেজ নেটওয়ার্ক ও এসটিপি স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহন, শোধন এবং পরিবেশগত মান বজায় রেখে নিষ্পত্তির একটি সমন্বিত ব্যবস্থা তৈরি করা। এ ধরনের সমন্বিত ব্যবস্থায় একই অবকাঠামো বহু আবাসন প্রকল্প ব্যবহার করতে পারে। এতে পৃথক পৃথক প্রকল্পের ওপর এসটিপির সম্পূর্ণ ব্যয় চাপানোর প্রয়োজন কমতে পারে।

ডেভেলপারদের ওপর শুধু দায় চাপালে চলবে না :

আবাসন প্রকল্পের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ডেভেলপারদের অবশ্যই দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে সরকারি সংস্থাগুলোকেও সমন্বিত অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। একটি আবাসন প্রকল্পকে যদি বলা হয় নিজস্ব এসটিপি করো, নিজস্ব সিউয়ারেজ নেটওয়ার্ক করো, নিজস্ব ট্রিটমেন্ট সিস্টেম করো কিন্তু আশপাশে কোনো সমন্বিত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে সেটি দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। অতএব দায়িত্ব ভাগ করতে হবে, ডেভেলপার, স্থানীয় সরকার, ওয়াসা,পরিবেশ অধিদপ্তর, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সব পক্ষকে নিয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।

‘এসটিপি না’ নয়, ‘সঠিক এসটিপি’ চাই :

আবাসন শিল্পের অবস্থান হওয়া উচিত স্পষ্ট, আমরা পরিবেশ দূষণ চাই না। আমরা অপরিশোধিত পয়ঃবর্জ্য নদী-খালে ফেলতে চাই না। আমরা জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি চাই না। কিন্তু আমরা এমন নীতি চাই না, যার ফলে একটি প্রকল্পের অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা নষ্ট হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষের ফ্ল্যাট কেনার সক্ষমতা আরও কমে যায়।

আমাদের দাবি হওয়া উচিত :

প্রকল্পের আকার অনুযায়ী এসটিপির সক্ষমতা নির্ধারণ করতে হবে; যেখানে কার্যকর সরকারি সিউয়ারেজ নেটওয়ার্ক রয়েছে, সেখানে পুনরায় আলাদা এসটিপি চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়; একাধিক আবাসন প্রকল্পের জন্য রেজিওনাল এসটিপির সুযোগ রাখতে হবে; ছোট প্রকল্পের জন্য প্রযুক্তি ও ব্যয়ের দিক থেকে উপযোগী সমাধান নির্ধারণ করতে হবে; এসটিপি স্থাপনের পাশাপাশি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের বাস্তবসম্মত কাঠামো তৈরি করতে হবে; ডেভেলপারদের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবায়নযোগ্য সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে;  নতুন নিয়ম কার্যকর করার আগে চলমান ও অনুমোদিত প্রকল্পের জন্য যৌক্তিক ট্রানজিশনাল ব্যবস্থা রাখতে হবে; পরিবেশগত মানের ক্ষেত্রে কোনো আপস না করে প্রযুক্তি নির্বাচনে নমনীয়তা দিতে হবে।

আবাসন শিল্পকে শাস্তি নয়, সহযোগিতা প্রয়োজন :

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আবাসন শিল্পের গুরুত্ব অনেক। এ খাতের সঙ্গে রড, সিমেন্ট, ইট, বালু, টাইলস, কাচ, অ্যালুমিনিয়াম, আসবাবপত্র, ইলেকট্রিক্যাল পণ্য, পরিবহন ও অসংখ্য সেবা খাত জড়িত। ফলে আবাসন শিল্পে বিনিয়োগ কমে গেলে শুধু ডেভেলপার ক্ষতিগ্রস্ত হন না; এর প্রভাব পড়ে বৃহত্তর অর্থনীতিতে। একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বও অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তাই সমাধান হতে হবে পরিবেশবান্ধব কিন্তু বিনিয়োগবান্ধব; আইনসম্মত কিন্তু বাস্তবসম্মত; আধুনিক কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে সহনীয়।

আবাসন প্রকল্পে পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য। কিন্তু এসটিপি-কে এমনভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে যাতে পরিবেশ রক্ষা ও আবাসন উন্নয়ন দুটো পরস্পরের প্রতিপক্ষ না হয়ে ওঠে। বর্তমান বিধিমালায় ৫ কাঠা বা তদূর্ধ্ব জমির ভবনের ক্ষেত্রে এসটিপির সংস্থানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে এবং ঢাকা ওয়াসার পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত ভবনের জন্য ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। এই ব্যতিক্রমই দেখায় যে একটি মাত্র মডেল সব জায়গায় প্রযোজ্য নয়। 

সুতরাং এখন প্রয়োজন আবাসন শিল্পের প্রতিনিধিদের, বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী, পরিবেশবিদ, ওয়াসা, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার মধ্যে খোলামেলা আলোচনা এবং ঢাকা শহরকে কয়েকভাবে বিভক্ত করে সেন্ট্রাল এসটিপি ইউনিট স্থাপন করা যেতে পারে।

পরিবেশ রক্ষা করতে হবে কিন্তু আবাসন শিল্প ধ্বংস করে নয়। এসটিপি করতে হবে কিন্তু বাস্তবতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে। আইন করতে হবে কিন্তু এমন আইন, যা বাস্তবে বাস্তবায়নযোগ্য। অন্যথায় পরিবেশ সুরক্ষার একটি ভালো উদ্দেশ্যও অনিচ্ছাকৃতভাবে আবাসন সংকট, ফ্ল্যাটের মূল্যবৃদ্ধি, বিনিয়োগ হ্রাস এবং মধ্যবিত্তের আবাসন-স্বপ্নকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। আমাদের প্রয়োজন “আবাসন বনাম পরিবেশ” নয়, বরং “পরিবেশবান্ধব টেকসই আবাসন”।

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  এএসএম আবদুল গাফফার মিয়াজী   সিউয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি)   আবাসন শিল্প   পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা   পরিবেশবান্ধব আবাসন  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close