শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২০ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: র‌্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের বিল সংসদে      রোহিঙ্গাদের অস্তিত্ব অস্বীকার করলো মিয়ানমার      বেনজীরের অবস্থান জানতে ইন্টারপোলে ফের চিঠি      আসিফ মাহমুদের দেয়া সব নিয়োগ-পদোন্নতির নথি তলব দুদকের      আগস্টে মব সহিংসতায় নিহত ২৮, নদী-খাল-জঙ্গলে হত্যাকাণ্ডের শিকার ৮৭      সাত মাসে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ, উদ্ধার ১৩ হাজার ৬৭৯       ডেঙ্গুতে আরও চার মৃত্যু, নতুন রোগী ১২৫২      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
ডেঙ্গু ও হামে মৃত্যুর মিছিল ঠেকাতে বহুমুখী পদক্ষেপ জরুরি
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫১ এএম

দেশে একদিকে ডেঙ্গু, অন্যদিকে হাম—দুই সংক্রামক ব্যাধির যুগপৎ বিস্তার জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২৫২ জন। 

চলতি বছরের ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৯ হাজার ৫৩২ জন, মৃত্যু হয়েছে ১১১ জনের। একই সময়ে হাম উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে আরও তিনজনের, নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪৪ জন। গত মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার এবং শিশুমৃত্যুর সংখ্যা ৮৮৭।  

লক্ষণীয় বিষয় হলো, পরিস্থিতির ধারাবাহিকতা। গত তিন বছরের তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছিল ১ হাজার ৭০৫ জনের, ২০২৪ সালে ৫৭৫ জনের এবং ২০২৫ সালে ৪১৩ জনের। মৃত্যুর সংখ্যা কমলেও তা কখনোই শূন্যের কাছাকাছি পৌঁছায়নি, বরং প্রতিবছর নিয়মিত বিরতিতে ফিরে আসা এক মৌসুমি দুর্যোগে পরিণত হয়েছে ডেঙ্গু। 

অন্যদিকে হামের মতো টিকা-প্রতিরোধযোগ্য রোগের এমন ব্যাপক প্রাদুর্ভাব প্রশ্ন তোলে দেশের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) কার্যকারিতা নিয়ে। দুটি রোগই মূলত প্রতিরোধযোগ্য, অথচ উভয় ক্ষেত্রেই আমরা মৃত্যু ঠেকাতে ব্যর্থই হয়েছি। ডেঙ্গুর বিস্তার প্রধান কারণ এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নগর ও স্থানীয় প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদি ব্যর্থতা। বর্ষা মৌসুম এলেই মশক নিধন কার্যক্রম নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়, কিন্তু বছরের বাকি সময় জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নির্মাণাধীন স্থাপনায় জমা পানি অপসারণের মতো কাঠামোগত কাজে দৃশ্যমান অগ্রগতি চোখে পড়ে না। 

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকাসহ প্রায় প্রতিটি বিভাগেই আক্রান্তের উপস্থিতি প্রমাণ করে, সমস্যাটি এককভাবে রাজধানীকেন্দ্রিক নয়—এটি এখন সারা দেশের সমস্যা। একইভাবে হামের প্রাদুর্ভাব নির্দেশ করে টিকাদানে অন্তর্ভুক্তির ঘাটতি, বিশেষত প্রান্তিক ও দুর্গম জনগোষ্ঠীর মধ্যে, এবং কিছু ক্ষেত্রে টিকাবিরোধী ভুল তথ্যের প্রভাবও উপেক্ষা করার উপায় নেই। 

স্বাস্থ্য খাতের সংকট শুধু এই দুটি রোগেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি বৃহত্তর কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন। হাসপাতালে শয্যা সংকট, দক্ষ জনবলের অভাব, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে ল্যাবরেটরি সুবিধার সীমাবদ্ধতা এবং তথ্য ব্যবস্থাপনায় বিলম্ব—এসব মিলিয়ে সংক্রামক ব্যাধি মোকাবিলায় প্রতিক্রিয়া জানাতে দেরি হয়ে যায়। এই বাস্তবতায় প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক বহুমুখী পরিকল্পনা। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বছরব্যাপী মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চালু রাখা এবং শুধু মৌসুমি নয়, বরং প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসে স্থায়ী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা।  

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দায়বদ্ধতা নির্ধারণ করে জলাবদ্ধতা নিরসন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ঘটানো। জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতা সম্প্রসারণ করে প্রান্তিক ও দুর্গম এলাকায় বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা এবং টিকাসংক্রান্ত ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করা। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে জ্বর ও ফুসকুড়িজনিত রোগ শনাক্তের জন্য প্রয়োজনীয় ল্যাব সুবিধা ও জনবল বৃদ্ধি করা। প্রতিদিনের সংক্রমণ ও মৃত্যুর তথ্য বিভাগ ও জেলাভিত্তিক প্রকাশ করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, যাতে জনগণ ও গণমাধ্যম বাস্তব চিত্র অনুধাবন করতে পারে। নাগরিক পর্যায়ে সচেতনতা—নিজ নিজ বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা—এই দায়িত্ববোধ ছাড়া কোনো সরকারি উদ্যোগই পূর্ণ সাফল্য পাবে না। 

ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধযোগ্য রোগ। প্রতিবছর এ দুই রোগে শতশত প্রাণহানি মেনে নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ—যাতে প্রতিবছর একই মৌসুমে একই দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close