কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার শতাধিক হতদরিদ্র গ্রাহকের সঞ্চয় ও এফডিআরের প্রায় ১৭ লাখ টাকা নিয়ে পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের (পিডিবিএফ) চুক্তিভিত্তিক ঋণদান মাঠকর্মী শাহ জাহান আলী উধাও হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত তিন মাস ধরে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে। টাকা ফেরত পেতে প্রতিদিন পিডিবিএফের উপজেলা কার্যালয়ে ধরনা দিচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযুক্ত শাহ জাহান আলী ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার শড়াতলা স্কুলপাড়ার মো. লিয়াকত আলীর ছেলে। তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দেবিদ্বার পৌরসভার মোল্লাবাড়ি এলাকায় একটি ভবনের পঞ্চম তলায় ভাড়া থাকতেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাওনা টাকা ফেরতের বিষয়ে পিডিবিএফ কার্যালয়ে আসেন মাশিকাড়া গ্রামের মাসুম, ভূষণা গ্রামের সাক্কুম মিয়াসহ কয়েকজন ভুক্তভোগী। সেখানে তাঁরা জানতে পারেন, শাহ জাহান আলীর সঙ্গে অফিসের কারও যোগাযোগ নেই। পরে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ভুক্তভোগীরা জানান, শাহ জাহান আলী দীর্ঘদিন ধরে তাদের কাছ থেকে নিয়মিত সঞ্চয় ও ঋণের কিস্তির টাকা আদায় করতেন। তারা বিশ্বাস করে তার কাছে টাকা জমা দিতেন। কিন্তু গত তিন মাস ধরে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
পরে পিডিবিএফ কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে কর্তৃপক্ষ জানায়, শাহ জাহান আলী চুক্তিভিত্তিক ঋণদান মাঠকর্মী ছিলেন। হিসাব মিলিয়ে গ্রাহকদের জমা দেওয়া বিপুল পরিমাণ টাকার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
ভূষণা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত মো. কাশেম মিয়া বলেন, “আমরা দিন আনি দিন খাই। অধিকাংশ গ্রাহক শ্রমিক। অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে রাখতাম। শাহ জাহান আলী মাঠকর্মী হিসেবে আমাদের কাছে বিশ্বস্ত ছিলেন। এখন তিনি আমাদের সবার টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন। পাওনা টাকা ফেরতের জন্য বারবার অফিসে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাচ্ছি না।”
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে শাহ জাহান আলীর মোল্লাবাড়ির ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখা যায়, তিনি যে কক্ষে থাকতেন সেটি তালাবদ্ধ। বাড়ির মালিক মোসা. রাশেদা আক্তার বলেন, গত তিন মাস ধরে শাহ জাহান আলী পরিবারসহ নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁর কাছে তিন মাসের বাড়িভাড়াও বকেয়া রয়েছে। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরটিও বন্ধ। এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং পত্রিকায় সন্ধান চেয়ে বিজ্ঞপ্তিও দিয়েছেন।
পিডিবিএফের দেবিদ্বার উপজেলা কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “শাহ জাহান আলী চুক্তিভিত্তিক ঋণদান মাঠকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি প্রায় আট মাস আগে এ কার্যালয়ে যোগ দেন। এ সময়ে শাহ জাহান আলীকে অফিসের বিভিন্ন কাজ বিশ্বস্ততার সঙ্গে করতে দেখেছেন। তিনি এমন ঘটনা ঘটাবেন, তা তারা কখনো ভাবেননি।”
অভিযোগের বিষয়ে শাহ জাহান আলীর বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
পিডিবিএফ কুমিল্লা জেলার সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “শাহ জাহান আলী গ্রাহকদের প্রায় ১৭ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তবে তার বাবা জেলা অফিসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তার বাবা বিষয়টি সুরাহা করতে পারলে সমস্যা থাকবে না।”
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় পিডিবিএফের প্রধান কার্যালয় থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখনো মামলা করা হয়নি। প্রধান কার্যালয় থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে তা জানানো হবে।
কেকে/সাশ