ইতালি গিয়ে সংসারের অভাব ঘোচানোর স্বপ্ন ছিল মাদারীপুরের সাইদুল বেপারীর। কিন্তু দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে সেই স্বপ্ন এখন নির্মম বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে শ্রীলঙ্কা ও দুবাই ঘুরিয়ে সাইদুলকে পাচার করা হয় লিবিয়ায়। সেখানে তাকে জিম্মি করে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে ৩৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। সর্বস্ব হারিয়ে পরিবারটি এখন নিঃস্ব। এরই মধ্যে গত দুই মাস ধরে সাইদুলের কোনো খোঁজও নেই।
ঘরের চৌকাঠে চোখ রেখে অঝোরে কাঁদছেন বৃদ্ধা মা সূর্যবান বেগম। অন্যদিকে বাবার পথ চেয়ে আছে চার বছরের মেয়ে ও ১১ মাসের শিশু সন্তান। অবুঝ চার বছরের মেয়েটি আজও বাবার সঙ্গে কথা বলার আশায় মায়ের হাতে মোবাইল তুলে দেয়। সে জানে না, তার বাবা কোথায় হারিয়ে গেছেন।
পরিবারের অভিযোগ, মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটকচর এলাকার দালাল আনোয়ার ফরাজী ওরফে আনু ২৩ লাখ টাকার চুক্তিতে ২০২৫ সালের মে মাসে সাইদুলের পরিবারের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা অগ্রিম নেন। পরে শ্রীলঙ্কা ও দুবাই হয়ে ইতালির পরিবর্তে সাইদুলকে লিবিয়ায় পাচার করা হয়। সেখানে তাকে জিম্মি রেখে নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে দালালচক্র আরও ২৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে বলে অভিযোগ পরিবারের।
ভিটেমাটি বিক্রি, ধারদেনা এবং চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ৩৯ লাখ টাকা পরিশোধ করেও সাইদুলকে ফিরে পায়নি পরিবার। গত দুই মাস ধরে স্বজনদের সঙ্গে তার যোগাযোগও পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
সাইদুলের সন্ধান না পেয়ে তার বড় ভাই সামাদ হোসেন বাদী হয়ে দালাল আনোয়ারসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মাদারীপুর আদালতে মামলা করেছেন।
টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত দালাল আনোয়ার ওরফে আনু। তবে তার স্ত্রী শিল্পী আক্তার ১৯ লাখ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, আদালতের নির্দেশনা পেলেই মামলা নথিভুক্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব পরিবারটির এখন একটাই আকুতি—সাইদুলকে জীবিত অবস্থায় ফিরে পাওয়া এবং দালালদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
কেকে/সাশ