চার দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। সমঝোতা বৈঠক এবং দাবি আদায়ের পরও কাজে ফেরেননি তারা।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের বহির্বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও জরুরি বিভাগ চালু রয়েছে। এতে হাসপাতালের নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে গত মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সংঘর্ষের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক আনসার সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় আনসার কমান্ডারসহ ২০ জনকে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ছয়জনের মধ্যে ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের ১২ জন আহত হন। ঘটনার পর হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার, চিকিৎসকদের নিরাপত্তাসহ চার দফা দাবিতে ওই রাত থেকেই কর্মবিরতি শুরু করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।
এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের করা মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা জরুরি বিভাগ ছাড়া হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোর সেবা বন্ধ রাখেন। এতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ায় হাসপাতালজুড়ে উত্তেজনা দেখা দেয়।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পরে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ), হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।
তবে বৈঠকের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। তাদের দাবি, চার দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা কাজে ফিরবেন না। পাশাপাশি চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংসদে নতুন আইন পাসের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর-ই-মোর্শেদ বলেন, “ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কাজে ফেরানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে চিকিৎসাসেবা পুরোপুরি চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।”
কেকে/সাশ