মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বাঘাইকান্দি গ্রামে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে একটি পক্ষের বিরুদ্ধে। এ সময় দখল কাজে বাধা দিতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় দুইজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের বাঘাইকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহতরা হলেন— বাঘাইকান্দি গ্রামের কামরুল হাসানের স্ত্রী লিপি আরা পারভিন (৪০) এবং রেনু মিয়ার স্ত্রী রফেজা বেগম (৬১)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইমামপুর ইউনিয়নের মান্দারতলী মৌজার আরএস ৩১১ নম্বর খতিয়ান ও ১২০০ নম্বর দাগের ২ শতাংশ জমি নিয়ে বাঘাইকান্দি গ্রামের রেনু মিয়ার সঙ্গে প্রতিবেশী সাইফুর রহমান ওরফে সৈয়দ হোসেনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।
রেনু মিয়ার দাবি, ১৯৬৫ সালে গফুর আলীর কাছ থেকে ক্রয়সূত্রে ১০ শতাংশ সম্পত্তির মালিক হন তার মা তহুরুন নেসা। পরবর্তী ১৯৮৩ সালে এ সম্পত্তি তার মা তাকে লিখে দেন। সেই থেকে অদ্যবধি তিনি এ সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন। তবে আরএস রেকর্ডে ২ শতাংশ সম্পত্তি কম উঠে আসে। দলিলে সঠিক পরিমাণ উল্লেখ থাকায় এবং জমি নিজ দখলে থাকায় বিষয়টি নিয়ে এতদিন কোনো জটিলতা তৈরি হয়নি। কিন্তু প্রতিপক্ষ সাইফুর রহমান ২০২৫ সালে আরএস পর্চা অনুযায়ী ওই ২ শতাংশ জায়গা ক্রয় করলে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
পরবর্তী রেকর্ড সংশোধনের জন্য তারা আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন। মামলার বিষয়টি জানতে পেরে সাইফুর রহমান জমি দখলে তৎপর হয়ে ওঠে। বহিরাগতদের নিয়ে জমি দখলের চেষ্টার প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় আরেকটি মামলা দায়ের করা হলে আদালত উভয়পক্ষকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা নির্দেশনা দেন।
অভিযোগ উঠেছে, আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে বৃহস্পতিবার সকালে ৩০-৪০ জন লোক নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিটি দখল করতে আসে সাইফুর রহমান। এতে বাঁধা দিতে গেলে হামলায় দুই নারী আহত হন। এ ঘটনায় রেনু মিয়ার ছেলে কামরুল হাসান বাদী হয়ে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে গজারিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী কামরুল হাসান বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিপক্ষের একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমাদের জমিতে অনাধিকার প্রবেশ করে আমাদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা বসতঘরের টিনের বেড়া ও বাউন্ডারি ভেঙে ফেলে এবং ঘর তোলার জন্য রাখা টিন, কাঠ, ইট ও সিমেন্টসহ আনুমানিক লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার সময় আমার পরিবারের সদস্যরা ভিডিও ধারণ করতে গেলে দুজন নারীকে পিটিয়ে জখম করা হয়।’
এদিকে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জমি দখলের বিষয়টি স্বীকার করেছেন প্রতিপক্ষের নূর হোসেন।
তিনি বলেন, ‘সম্পত্তি নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে তা আমরা জানি। সবকিছু জেনে-বুঝে আমরা সম্পত্তি দখলে নিয়েছি, কারণ আমরা এটি ক্রয়সূত্রে মালিক হয়েছি। স্থানীয় লোকজনও আমাদের জমি দখলে সহযোগিতা করেছে। এখানে সত্য গোপন করার কিছু নেই।’
গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নকীব আকরাম হোসেন বলেন, ‘ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। জমিটি নিয়ে দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় আদালতেই মামলা রয়েছে বলে জেনেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এআই